শ্বশুরের ‘কুপ্রস্তাব’ স্বামীকে বলে দেয়ায় প্রাণ গেল গৃহবধূর!

ঝিনাইদহে শ্বশুরের কুপ্রস্তাবের কথা স্বামীকে বলে দেয়ায় প্রাণ গেল গৃহবধূর। এ ঘটনার পর গৃহবধূ শাপলার মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসীদেবপুর গ্রামে বিক্ষোভ ও বাজারে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

নিহত গৃহবধূ শাপলার বাবা সিরাজ বলেন, তিন বছর আগে সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নাসির মন্ডলের ছেলে নয়নের সঙ্গে আমার বড় মেয়ে শাপলার বিয়ে হয়। এরপর থেকে মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিত তার শ্বশুর। এ অবস্থায় একবার মেয়ে আমার বাড়িতে আসলে আর শ্বশুরবাড়ি যেতে চাইতো না। পরে জানতে চাইলে শ্বশুরের কুপ্রস্তাবের বিষয়টি খুলে বলে মেয়ে। এরপরও মেয়েকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার শাপলার শাশুড়ি তার মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলে শাপলাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় শ্বশুর। ওই সময় মেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। এ ঘটনা মেয়ে তার জামাইকে বলে দেয়। বাবার বিচার না করে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েকে নির্যাতন করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে জামাই নয়ন। পরে প্রতিবেশীরা মেয়েকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যায় আমার মেয়েটি।

শ্বশুরের 'কুপ্রস্তাব' স্বামীকে বলে দেয়ায় প্রাণ গেল গৃহবধূর!

স্থানীয় মহিলা মেম্বার লাকি খাতুন বলেন, শাপলা অত্যন্ত ভালো মেয়ে ছিল। শ্বশুর ও জামাই এর আগেও মেয়েটি অত্যাচার করেছে। মুখ বুঝে সব সহ্য করেছে মেয়েটি। এরই মধ্যে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে শ্বশুর। স্বামীকে বলায় মেয়েটিকে মারধর করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার মেয়েটি মারা যায়। শনিবার তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছালে গ্রামের লোকজন মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। সেই সঙ্গে বাসুদেবপুর বাজারে গিয়ে মানববন্ধন করেছে গ্রামবাসী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।