দাবদাহ ছড়াচ্ছে রোগবালাই, বিপাকে শিশুরা

তীব্র গরমে কাবু হচ্ছে শিশুরা। ডায়রিয়া, ব্রংকিউলাইটিস ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে এ ধরনের রোগীর আধিক্য দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালসহ একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। নিউমোনিয়ার পাশাপাশি রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া রোগীরও দেখা মিলছে।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে শয্যা রয়েছে ৭০টি। অথচ সেখানে প্রায় আড়াইশ রোগী ভর্তি আছে। শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

৯ নম্বর শিশু মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি আছে পটিয়ার বাসিন্দা আড়াই বছরের ফারিহা জান্নাত। নিউমোনিয়া আক্রান্ত ফারিহাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও সারেনি। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফারিহার মা আকলিমা আকতার বলেন, বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে হালকা জ্বর ছিল। বিকেলে স্থানীয় এক চিকিৎসককে দেখানো হয়। রাতে অবস্থার অবনতি হলে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসি।

পাশের শয্যায় চিকিৎসাধীন রবিউল হোসেনের (০১) মা নাছরিন আকতার বলেন, গরমে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। প্রতিদিন চারবার নেবুলাইজড করতে হচ্ছে।দাবদাহে অসুস্থ হচ্ছে শিশুরা। ফাইল ফটোএকই চিত্র আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু বিভাগেও। শয্যা খালি না থাকায় চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে অনেক রোগীকে ভর্তি করানো যাচ্ছে না।

চমেক হাসপাতাল শিশু বিভাগের প্রধান প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, স্বাভাবিকের তুলনায় রোগী বেশি ভর্তি হচ্ছে।

‘আগে গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ রোগী ভর্তি হলেও এখন ৫০ থেকে ৬০ রোগী ভর্তি হচ্ছে। বেশিরভাগের বয়স ৫ বছরের কম। ডায়রিয়া, ব্রংকিউলাইটিস ও নিউমোনিয়ায় ভুগছে তারা।’

তিনি বলেন, গরমে শিশুদের খাবার ও পানি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করানোর পাশাপাশি বাসি খাবার থেকে দূরে রাখতে হবে।

আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল শিশু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, বাচ্চাদের গায়ের কাপড় বার বার বদলাতে হবে। নয়তো শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ঘাম আবারও ঢুকে নানা রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

‘তাপমাত্রা সহনীয় এমন স্থানে শিশুদের রাখতে হবে। অতিরিক্ত গরম-ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি তরল খাবার খাওয়াতে হবে।’