শ্রীলঙ্কার হামলায় অর্থ যোগান দিয়েছে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ড্রাগ কার্টেল অর্থ দিয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকনোমিকস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার সমুদ্রপথে ধস নামার পর থেকে গত সাত বছর ধরে ইউরোপে মাদাক পাচারের জন্য শ্রীলঙ্কার সমুদ্রপথ ব্যবহার করছে পাকিস্তানের মাদক চোরাচালানকারীরা।

ভারতের গোয়েন্দাদের মতে, করাচি থেকে নৌকার পর জাহাজের মাধ্যমে মাদকগুলো শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। সমুদ্রপথে চোরাচালানে ঝুঁকি কম ও ক্রয়কারী দেশে মাদক পাঠানোর খুব সহজ পথ। আর এসব মাদক বিক্রির মাধ্যমে যোগাড় করা অর্থই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করতে ব্যবহৃত হত। একই সঙ্গে আইএসআইয়ের নির্দেশে পূর্ব শ্রীলঙ্কায় চরমপন্থী মতাদর্শকে উৎসাহিত করে বলে সূত্র জানায়।

কলম্বোতে পাকিস্তানের হাইকমিশনের এই কার্যক্রম দেখেও চুপ ছিলেন মাহিন্দ্র রাজাপাকসে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলামের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে জড়িত শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশটির পূর্ব অংশে চরমপন্থীদের উত্থানকে অবজ্ঞা করেছে।

২০১৪ সালে চেন্নাইয়ের একটি গুপ্তচরবৃত্তি চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। চক্রটি আইএসআইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত পাকিস্তানের কূটনীতিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ২০১৮ সালে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) আদালতে একটি মামলায় দোষী সাবস্ত্য হয় সনাক্ত হওয়া দুই সন্দেহভাজন মোহাম্মদ সালিম (৪৩) এবং শ্রীলঙ্কার নাগরিক মোহাম্মদ সাকির হুসাইন।

এনআইএর মতে, কলম্বোতে পাকিস্তানের হাইকমিশনের আমির জুবায়ের সিদ্দিকীর নির্দেশ অনুযায়ী এই দুইজন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য চেন্নাই গিয়েছিল। আমির জুবায়ের সিদ্দিকী তাদের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। ওই দুইজনকে তামিল নাড়ু পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে এনআইএর কাছে প্রেরণ করে। এনআইএর চার্জশিটে সিদ্দিকীর নাম রয়েছে। ‘দুর্নীতিবিরোধী’ হয়ে ওঠায় নতুন দিল্লির চাপ সৃষ্টির পর তিনি হাইকমিশন থেকে বেরিয়ে আসেন।

এদিকে ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কার সাহায্যর্থে আইএসআইয়ের নয় হামলাকারী ও তাদের নিয়ন্ত্রককে চিহ্নিত করেছে মরক্কো। হামলার পর ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সঙ্গে এ তথ্য শেয়ার করেছে মরক্কো। মরক্কোর সফল রেকর্ডগুলোর মধ্যে একটি সন্ত্রাসবাদ এবং মৌলবাদীদের রিপোর্ট রয়েছে।