সেই মাদরাসায় পড়তে চান না অধ্যক্ষের লালসায় নিহত নুসরাতের ভাই রায়হান

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আর পড়তে চান না নিহত নুসরাত জাহান রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। বৃহস্পতিবার রাতে ওই মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র রায়হান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

রায়হান বলেন, কীভাবে ওই মাদরাাসায় পড়বো? কী জবাব দেবো সহপাঠী ও শিক্ষকদের? কীভাবে ভুলবো আমার আপুর অসহ্য যন্ত্রণার কথা? আমি আর ওই মাদরাসায় পড়বো না। আমার বোনও মাকে বলেছিল আলিম পাস করার পর ওই মাদরাসায় আর ভর্তি হবো না। ফেনীর অন্য যে কোনো মাদরাসায় ফাজিলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার কথা বলেছিলো সে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি বলেছিলেন দাখিল পরীক্ষার পর আমার পড়ালেখার দায়িত্ব নেবেন। দাখিল পাস করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানাবো। তিনি সহযোগিতা করলে আমি উন্নত দেশে পড়ালেখা করতে চাই। আমার বোনের স্মৃতি যেন হারিয়ে না যায়।

গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে যৌন হয়রানির দায়ে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার ১০ দিন পর ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ওপরে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুগতরা। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত। পরদিন সকালে ময়তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আলোচিত এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে আটজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।