মিষ্টি মেয়ে ছিল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবণ্য

মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে ছিল সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে মারা যাওয়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্য (২১)। ক্লাসে সে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলতো। শুধু তাই নয়, লাবণ্য ছিল অনেক মেধাবী ছাত্রী।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। এরপর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্সে ভর্তি হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অকালে প্রাণ হারানো ছাত্রীর স্মৃতিচারণ করে এসব কথা বলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ফেরদৌসী বেগম।

তিনি বলেন, ‘ফাহমিদা হক লাবণ্যর মৃত্যুর সংবাদ টিভিতে দেখে প্রথমে অনেক চেনা চেনা মনে হচ্ছিল। পরে ভালো করে লক্ষ্য করে বুঝতে পারি লাবণ্য আমাদের ছাত্রী ছিল। ভিকারুননিসায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ২০১৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে সে কম্পিউটার সাইন্সে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল।’

ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘লাবণ্য ছিল অনেক মেধাবী ছাত্রী। ক্লাসে তার সহপাঠীসহ সব ছাত্রী তাকে অনেক ভালোবাসতো। সে সবার সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলতো। অনেক ভদ্র-শান্ত ও মিষ্টি মেয়ে ছিল লাবণ্য। শিক্ষকরাও তাকে অনেক স্নেহ করতেন। পড়ালেখার পাশাপাশি ভিকারুননিসার বিভিন্ন গ্রুপ ও ক্লাবের সদস্যও ছিল লাবণ্য। মাঝে মাঝে এসব ক্লাবে উপস্থিত হতো। তাকে (লাবণ্য) ক্লাসে ও কলেজ ক্যাম্পাসে অনেকবার আমি দেখেছি, তার মৃত্যুর খবর শুনে বারবার এ মিষ্টি মেয়েটির চেহারা চোখের সামনে ভাসছে। তার অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই আমি মেনে নিতে পারছি না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাবেক এ ছাত্রীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সামনে দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্য।

এদিকে লাবণ্যর মৃত্যুর খবর পেয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে ভিড় জমান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ঘাতক কাভার্ডভ্যান চালক ও উবার রাইডারের বিচারের দাবি করেন।

শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মেয়েটি উবারে রাইড নিয়েছিল। দুর্ঘটনায় উবার চালক সুমন আহত হলেও পুলিশ যাওয়ার আগে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাইডারকে খোঁজার চেষ্টা করছি। তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ঠিকানা পাওয়া গেছে। তিনি আদাবরে থাকেন। আমরা তাকে ট্রেস করার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া যে কাভার্ডভ্যানটি তাকে চাপা দেয় সেটিও শনাক্ত করার কাজ চলছে।