একাধিক প্রেম করায় প্রেমিককে খুন করলো ফারজানা

নিখোঁজের দুই মাস পর হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কলেজছাত্র উজ্জলের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে গত রোববার পুলিশ ওই ছাত্রের প্রেমিকা ফারজানা আক্তার ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।গতকাল সোমবার দিনভর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিক উজ্জলকে খুনের পেছনে তার একাধিক প্রেম থাকার কথা জানিয়েছে ফারজানা।জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি লাখাই উপজেলার মুড়াকড়ি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে উজ্জল মিয়া নিখোঁজ হয়। সে মাধবপুর উপজেলার সঈদ উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি তার পরিবারের পক্ষ থেকে লাখাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। প্রেমিকা ফারজানা আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে। সে ক্ষুদে ব্যবসায়ী মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। সে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।ফারজানাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, ফারজানার বোবা মঞ্জু মিয়া কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি এখন ঢাকায় ফেরি করে চা বিক্রি করেন। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ফারজানা দ্বিতীয়। মা-বাবাসহ অপর ভাইবোনরা ঢাকায় থাকায় গ্রামের বাড়িতে একাই থাকতো ফারজানা। বাবা-মার মাতার অবর্তমানে তার বাড়ির লাগোয়া দুই চাচা আনো মিয়া ও তনু মিয়া তার দেখাশোনা করতেন।২০ ফেব্রয়ারি রাতে উজ্জল প্রেমিকা ফারজানার বাড়িতে আসে। বাড়িতে কেউ না থাকায় একপর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এ সময় উজ্জলের আরেক প্রেমিকা তামান্না ফোন করলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। উজ্জলের একাধিক প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ফারজানা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তা পাল্টিয়ে উজ্জলকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় সে। তখন সে বাড়িতে থাকা পুতা (মসলা বাটার কাজে ব্যবহৃত পাটা পুতাইল) দিয়ে উজ্জলের মাথায় আঘাত করে। এতে উজ্জল মাঠিতে লুঠিয়ে পড়ে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে সে উজ্জলের গলায় ফাঁস দিয়ে হাত পায়ের রগ কেটে ফেলে। রাতেই সে বাড়ির অপর কক্ষে গর্ত করে লাশ পুঁতে ফেলে। পরদিন সে ঢাকায় গিয়ে মা-বাবাকে ঘটনাটি জানায়। এর ১০ থেকে ১২ দিন পর মঞ্জু মিয়া বাড়িতে এসে উজ্জলের লাশ বস্তাবন্দী করে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি জলাশয়ের কচুরিপানার নিচে ফেলে দেন।এদিকে পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় ঘটনার রাতে উজ্জল ফারজানার বাড়িতে ছিল। পরে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ গত রোববার সকালে ধর্মপুর অভিযান চালিয়ে ফারজানা ও তার বাবা মঞ্জু মিয়াকে আটক করে। গতকাল সোমবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাবা-মেয়ে এই হত্যকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিশর্শক (তদন্ত) অজয় চন্দ্র দেব বলেন, ‘এই হত্যকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’