শ্রীলংকা হামলায় শেখ সেলিমের জামাতা আহত, নাতি নিখোঁজ

শ্রীলংকায় বোমা হামলার মধ্যে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের জামাতা আহত এবং নাতি নিখোঁজ হয়েছেন।

রোববার ব্রুনাই সফরের প্রথম দিন দারুসসালামে এম্পায়ার হোটেল অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। খবর বাসসের

শেখ হাসিনা বলেন, একটি দুঃখজনক ঘটনা হলো শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলংকায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সেলিমের মেয়ে-জামাই ও নাতি এ সময় একটি রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলেন। সেখানে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মেয়ে-জামাই আহত হন এবং রোবার বিকেল পর্যন্ত নাতির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া, তার স্বামী মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স ও তাদের দুই ছেলে সম্প্রতি শ্রীলংকায় বেড়াতে যান। বাবা প্রিন্স ও তার বড় ছেলে জায়ান চৌধুরী হামলার সময় হোটেলের নিচ তলায় এবং ছোট ছেলে জোহান ও তার মা শেখ সোনিয়া হোটেলের কক্ষে ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোন বর্ণ, ধর্ম ও দেশ নেই। তারা সন্ত্রাসী এবং মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং আমি তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রীলংকার আটটি স্থানে সংঘটিত বোমা হামলায় বহু লোক নিহত ও আহত হয়েছে। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ ও ব্রুনাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এ কে এম আহসান উল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসাইন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলী আশরাফ খান খসরু, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

রয়টার্স বলছে, রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কলম্বোরর একটি গির্জাসহ দেশটির তিনটি গির্জায় বোমা বিস্ফোরণ হয়। এছাড়া প্রায় একই সময়ে কলম্বোর তিনটি পাঁচ তারকা হোটেলেও হামলা হয়।

সকালে ছয়টি স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে কলম্বোর দক্ষিণাঞ্চলের দেহিওয়ালা এলাকায় একটি হোটেলে সপ্তম বিস্ফোরণটি ঘটে। এরপর কলম্বোর উত্তরে ওরুগোদাওয়াত্তা এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

দেশটির পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরা বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব হামলায় ২০৭ জনের মৃত্যুর খরব নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৫০ জনের বেশি। হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।