মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরলেন নাফনদী থেকে বিজিপির হাতে অপহৃত চার জেলে

টেকনাফের নাফনদীতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাছ শিকার বন্ধ থাকার পরও সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পেটের দায়ে জেলেরা নাফনদীতে মাছ গোপনে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। সেই সুত্র ধরে ১৬ এপ্রিল নাফনদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে মিয়ানমার বিজিপির হাতে অপহরন হয় বাংলাদেশী ৪ জেলে। অবশেষে সেই জেলেরা গোপনে মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরে এসেছে।

এখন তারা বাংলাদেশ সীমান্ত প্রহরী বিজিবি হাতে আটক হওয়ার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে তারা আটক আতংকে আত্মগোপনে রয়েছে।
সূত্রমতে, গত ১৭ এপ্রিল সকালে বিজিপির হাতে আটক শাহপরীর দ্বীপ বাজার পাড়ার আলী উল্লাহর পুত্র আজিম উল্লাহ (মাঝি), কলিম উল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ছৈয়দ আহমদের পুত্র আবুল কালাম ও পুরান বার্মাইয়া রশিদ উল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ হাসান দালালের মাধ্যমে গোপনে এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছে।
তবে গোপনে টাকা লেন-দেনের বিষয়টি কেউ স্বীকার করছেনা। মুক্তিপন দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নৌকা মালিক আমিন উল্লাহ।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার ফজলুল হক অপহৃত জেলেরা ফিরেছে বলে শুনেছে তবে এখনো তাদের সাথে দেখা হয়নি বলে জানান।
ফিরে আসা জেলেরা গত ১৬ এপ্রিল সকালে ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে মাছ শিকাররত অবস্থায় মিয়ানমার থেকে স্পীডবোটে করে মিয়ানমার বিজিপির একটি দল এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে মাছ শিকারে ব্যবহার হওয়া একটি নৌকাসহ তাদের ধরে নিয়ে যায়।
এই ব্যাপারে টেকনাফ ২বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল ফয়সাল হাসান খান বলেন, জেলে অপহরণের বিষয়টি জানার পর ওপারে যোগাযোগ করেছি। তারা স্বীকার করেনি। পাশাপাশি মুক্তিপণের বিনিময়ে গোপনে জেলে ফিরে আসার বিষয়টিও অবগত নন বলে জানান তিনি।
এদিকে নাফনদীতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাছ শিকার বন্ধ থাকা সত্বেও জেলেরা টাকার অভাব দুর করতে চুরি করে নদীতে মাছ শিকারে নামছে। এদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সদস্যরা যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে কঠোর অবস্থানে থাকায় গোপনে মুক্তিপন দিয়ে ফিরে আসা জেলেরা বিজিবি হাতে আটক হওয়ার ভয়ে আতœগোপনে চলে গেছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
সম্প্রতি নাফনদীতে ইলিশ মাছের আনা-গোনা জেলেদের নজরে পড়লে নাফনদী সীমান্তবর্তী উপকুলীয় এলাকার জেলেরা প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে সু-কৌশলে নদীতে মাছ শিকারে যায়। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি’র অসাধু সৈনিকরা বাংলাদেশী জেলেদের আটক করে ওপাড়ে নিয়ে গিয়ে গোপনে মুক্তিপণ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। এই সমস্ত অসাধু সৈনিকরা সীমান্তের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।