দুদকের গণশুনানীতে অভিযোগ

আদালতের নির্দেশের পরও ‘৫১ একরে’র স্থাপনা উচ্ছেদ করছে না জেলা প্রশাসন!

আদালতের নির্দেশের পরও ‘৫১ একরে’র স্থাপনা উচ্ছেদ করছে না জেলা প্রশাসন!

১২ বছরের ডিপিএসের টাকা মেরে দিল ঢাকা ব্যাংক!

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহককে কমিশনে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়ারও অনুরোধ জানান।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে দুদক আয়োজিত গণশুনানীতে এ নির্দেশ দেন কমিশনার।

কক্সবাজার শহরের এন্ডারশন রোড এলাকার বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম শুনানীতে অভিযোগ করেন, ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২০০৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাসিক তিন হাজার টাকা কিস্তিতে একটি ডিপিএস হিসাব খুলেছিলেন তার স্ত্রী ফারজানা ইয়াছমিন। চলতি বছর ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি হিসাবটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণের পর দেড়মাস পার হলেও লভ্যাংশ ও মূল টাকা গ্রাহকের বরাবরে পরিশোধ করা হয়নি। এ অবস্থায় ওই নারী গ্রাহক লভ্যাংশসহ টাকা ফেরত চেয়ে গত ৭ মার্চ ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা ব্যবস্থাপকের বরাবরে আবেদন করেন। আর ওই আবেদনের এক মাস পরও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ডিপিএসের জন্য প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করলেও একাউন্টে জমা হয়েছে দুই হাজার টাকা করে।

শুনানীতে উপস্থিত ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়টি জানতে চান। উত্তরে ব্যাংক ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা নয়, যাদের কিস্তি বকেয়া রয়েছে তাদের হিসাব বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকের হেড অফিসের একটি নির্দেশনার আলোকে প্রতি মাসেই বেশ কয়েকটি করে হিসাব বন্ধ করা হচ্ছে। তবে তিন হাজার টাকার স্থলে দুই হাজার টাকা জমার বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

কক্সবাজার ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন অভিযোগ করেন, কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে পাহাড় কেটে যে আবাসন প্রকল্পটি (কথিত ৫১ একর প্রকল্প) গড়ে তোলা হচ্ছে এটার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এমনকি সুপ্রীম কোর্ট ও হাইকোর্টের আপীল বিভাগ ওই আবাসন প্রকল্পকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। একই সাথে ওই জায়গাতে যে স্থাপনাগুলো নির্মাণ করা হয়েছে তা উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এই নির্দেশনার কয়েক বছর অতিবাহিত হলেও আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তার প্রতিউত্তরে দুদক কমিশনার আমিনুল ইসলাম এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন।

গণশুনানীর শুরুতে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাবঞ্চিত সেবা প্রার্থীদের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠে অনুষ্ঠানস্থল।

সম্প্রতি ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু’ সংক্রান্ত সমস্যার যথাযথ সমাধান না করে উল্টো ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেন উপস্থিত সেবাবঞ্চিতরা।

শুরুতে জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সদর হাসপাতেলে বেশ কয়েকবার গিয়েও তিনি চিকিৎসা পাননি। ডাক্তাররা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন।

আরেক অভিযোগকারী নাজিম উদ্দীন বলেন, কথায় কথায় সদর হাসপাতালে ধর্মঘটের কারণে দুই সপ্তাহে ২০জ ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রার্থীদের ধরে মারধর করে জেলে পাঠিয়েছেন ডাক্তাররা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেয়া হয়েছে। সদর হাসপাতালে খাবারের মানও খুবই নিম্নমানের। দেখভালের কেউ যেন নেই!

উত্তর পর্বে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ মহিউদ্দিন সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় উপস্থিত সবার মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গণশুনানি সঞ্চালনা করেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।