সেন্টমার্টিন যেতে লাগবে অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন, দিনে ১২৫০ জনের বেশি নয়!

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

আগামীতে ইচ্ছা করলেই সেন্টমার্টিনে যাওয়া যাবে না। ওই দ্বীপে ভ্রমণ করতে হলে পর্যটকদের আগেই অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। প্রতিদিন মাত্র এক হাজার ২৫০ জন পর্যটক রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন। এই রেজিষ্ট্রেশনের বাইরে কোন পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন না।

এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সোলতান আহমেদ। তাঁর মতে, দ্বীপটিকে রক্ষা করতে হলে এই ধরণের ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন। দ্বীপটিতে এত মানুষের চাপ সহ্য করা সম্ভব নয়।

তিনি মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার শহরের একটি অভিজাত আবাসিক হোটেলের হল রুমে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আইনগতভাবে এক হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ একদিনে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার অনুমোদন নেই। কিন্তু যাচ্ছে অনেক বেশি। তাই অচিরেই অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। রেজিষ্ট্রেশনের বাইরে কেউ যেতে পারবেন না। অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনের জন‌্য অপেক্ষা করতে হবে পর্যটকদের।

তিনি বলেন, রাতে যাতে পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে অবস্থান না করেন সে ব্যাপারেও নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা চলছে। তবে হঠাৎ করে সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি সেমিনারে জানান, সরকার ‘সেন্টমার্টিন এ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে কাজ করছে। সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে।

ড. সোলতান আহমেদ বলেন, সেন্টমার্টিনে গড়ে ওঠা রিসোর্ট গুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ারও পরিকল্পনা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন যেতে লাগবে অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন, দিনে ১২৫০ জনের বেশি নয়!

তাঁর মতে, শুধুমাত্র পানির কারণে অনেক শহর, অনেক সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। তেমনি ভাবে কক্সবাজারে যারা পর্যটন নিয়ে ব্যবসা করছেন তাদের উচিত পানি ব্যবস্থাপনা ও পয়নিষ্কাশন নিয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা।

তিনি মনে করেন, আমাদের চারদিকের পরিবেশ রক্ষা করা সকল নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সকলকে পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তরের আরআইও প্রকল্পের উদ্যোগে ‘স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন এনভাইরনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট ইন কক্সবাজার’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) এসএম সরওয়ার কামাল। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) লেঃ কর্ণেল আনোয়ারুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আদিবুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি লেঃ কর্ণেল আনোরুল ইসলাম বলেন, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার সাথে কাজ করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। তবে হোটেল মোটেল গুলো চাইলে নিজেদের মতো করে কয়েকটি হোটেল মিলে ছোট ছোট পয়নিষ্কাশন প্রকল্প (এসটিপি) বাস্তবায়ন করতে পারে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় পয়নিষ্কাশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বড় জায়গার প্রয়োজন। এটি খুরুশকুলে করা যায় কিনা চিন্তা করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম বলেন, সমুদ্র সৈকতে চিপস ও ডাবের খোসা পর্যটকদের ‘মুগ্ধ’ করে! কলাতলী মোড়ে রয়েছে বিশাল ডাস্টবিন। এই ডাস্টবিনের ৩০ ভাগ ময়লা থাকে ভেতরে, বাকী ৭০ ভাগ থাকে বাইরে। আর শহরে তো ডাস্টবিনের অভাব নেই! পর্যটকরা চাইলে এখন ‘ডাস্টবিনের সৌন্দর্য্য’ নিতে পারেন!

তিনি মনে করেন, এসব কারণে কক্সবাজারে বীচ থাকলেও পর্যটকরা বিমুখ হয়ে যাচ্ছেন। তারা এখন থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ামুখী হয়ে পড়ছেন।

তাঁর মতে, কক্সবাজার শহরে ১২ রকমের ডাস্টবিন রয়েছে।

এই সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক ও রোরাল ডেভলপমেন্ট অথরিটির (আরডিএ) যুগ্ন পরিচালক ফেরদৌস আলম খান।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!