অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো অগ্নিদগ্ধ সেই সুমাইয়া

কক্সবাজারর সদর হাসপাতালে বারান্দায় চিকিৎসা না পেয়ে বসে থাকা দগ্ধ সুমাইয়া আক্তার (৪) মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
গত ৯ এপ্রিল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে একটি সংগঠিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের দীর্ঘ ৫ ঘন্টা কর্মবিরতির কারণে সব বিভাগের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় চিকিৎসকরা। এমন সময়ে চার বছরের শিশু কন্যা অগ্নিদগ্ধ সুমাইয়া আক্তারকে নিয়ে সদর হাসপাতালে আসেন তার মা। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্মবিরতী হওয়ায় জরুরী বিভাগসহ সব বিভাগ বন্ধ থাকে। ওই কারণে কোন ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা পায়নি শিশু সুমাইয়া আক্তার।
সূমতে, গত ৯ এপ্রিল সকালে রান্না করা অবস্থায় মা সেতারা বেগম টয়লেটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরেই দেখেন চুলার আগুনে জ¦লছে শিশু কন্যা সুমাইয়া। ওই সময় শিশু সুমাইয়াকে কোলে নিয়ে ছুটে গেলেন চিকিৎসকদের কাছে। এমন সময়েই এক দিকে তাদের কর্মবিরতির আচরণ আর অন্যদিকে মেয়ে সুমাইয়ার যন্ত্রণার চিত্র। কর্মবিরতির অজুহাতে প্রায় ৫ ঘন্টা জরুরী বিভাগের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকার পর ওই দিন দুপুর দুইটার দিকে অবশেষে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি দেয় শিশু সুমাইয়াকে। কিন্তু ভর্তি দিলেও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধের কোন চিকিৎসা না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই পাঠিয়ে দেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। যদিও ওইদিন দুপুরেই রেফার করতে পারতো হাসপাতালের জরুরী বিভাগ। কর্মবিরতী দেয়ার কারণে সব বিভাগ বন্ধ রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশু সুমাইয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে টানা ৫ দিন মৃত্যু’র সাথে পাঞ্জা লড়ে গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে মারা যায়।
এদিকে শিশু সুমাইয়াকে ভর্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল কক্সবাজারে।