যুবক শামসু হত‌্যায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা করলেন মা গুলবাহার

যুবক শামসু হত‌্যায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা করলেন মা গুলবাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরতলীর লিংক রোডস্থ দক্ষিণ মুহুরী পাড়া এলাকায় ‘পরিকল্পিত’ভাবে এক যুবককে খুন করার ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে হত‌্যা মামলা হয়েছে। নিহত শামসুল আলমের (২৭) মা গুলবাহার খাতুন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এই মামলা করেন।

গত ১২ এপ্রিল রাতের কোন এক সময়ে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত একজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

সুত্র মতে, গত ১২ এপ্রিল রাতে কক্সবাজার শহরতলীর লিংকরোডস্থ দক্ষিণ মুহুরীপাড়ার মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে শামসুল আলম (২৭) নিখোঁজ হন। ওইদিন সারারাত বাড়ির লোকজন তাকে আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন সন্ধান পাননি। পরদিন ১৩ এপ্রিল সকালে পার্শ্ববর্তী এক কঁচুক্ষেতে তার পরিত্যক্ত মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব বড়ুয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

এদিকে এই হত‌্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে একত্রিত হয়ে স্থানীয় অধিবাসী ডাঃ জয়নাল আবেদীন (৪২) ও তার স্ত্রী শিউলিকে গণপিটুনি দিয়ে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। তবে মামলায় শিউলিকে আসামি না করায় পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গণপিটুনিতে আহত ডাঃ জয়নাল আবেদীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান এসব তথ‌্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শামসুল আলমের ভাই আবদুল খালেক দাবি করেন, এ ঘটনার মূলহোতা ডাঃ জয়নাল আবেদীন পুলিশ হেফাজতে আছে।

কক্সবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান জানান, শামসুল আলম হত্যাকান্ডের ব্যাপারে ৬ জনকে আসামি করে ১৫ এপ্রিল সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের মা গুলবাহার খাতুন। এ ঘটনায় আটক একজন পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। থানার উপ-পরিদর্শক রাজীব এই ঘটনার তদন্ত করছেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান।