‘নিজের পাঞ্জাবী খুলে ঢেকে দেই নুসরাতের শরীর’

সারাদেশে মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় দিয়েছে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আগুনে পুড়ে নিহত আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সোনাগাজী সাবের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।

এদিকে ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন সেই প্রতিষ্ঠানের আলিম পরীক্ষার্থী আবু বকর। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নুসরাতের চিৎকার শুনে আমি দৌঁড়ে সেদিকে ছুটে যাই। আমি দেখতে পেলাম নিচে থেকে আরো একজন পুলিশ সদস্য দৌঁড়ে আসছে। আমরা দুইজনে আগুন নেভানোর মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছিলাম না।’

তিনি বলেন, পরে পা মুছার পাপোষ দিয়ে নুসরাতের শরীরের আগুন নিভাই। আগুন নিভানোর পর দেখি নুসরাত বিবস্ত্র অবস্থায় আছে। আমি তখন নিজের পাঞ্জাবী খুলে নুসরাতের শরীর ঢেকে দেই।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। পরিবারের অভিযোগ, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে করা মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিতে নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়। আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা চলাকালে ১০ এপ্রিল মৃত্যু হয়।