রমজান টার্গেট করে অধিক মুনাফা লুট ব্যবসায়ীদের

হুমায়ুন কবির জুশান
নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে উখিয়ার ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্য মজুদ করা শুরু করেছেন। প্রতিবছরই রোজার আগে ব্যবসায়ীরা প্রসাশন তথা সরকারকে আশ্বাস দেন, পণ্যের দাম না বাড়ানোর। অতি মুনাফা না করার। কিন্তু এসব আশ্বাস কাজে পরিণত হয় না। কারসাজি করে বাজার রাখেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই। ফলে ছোলা, চিনি, মুড়ি ও বেগুনসহ নিত্যপণ্যের দাম রোজার কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। এটা যেন তাদের পুরাতন অভ্যাস।

বিদেশে রোজার সম্মানে ব্যবসায়ীরা কম লাভ করেন। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা রোজাকে টার্গেট করে অধিক মুনাফা লুটিয়ে নেন।

প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গার বসবাস উখিয়া-টেকনাফে। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাহিদার কথা বিবেচনা করে রোজার প্রয়োজনীয় পণ্যের যথেষ্ট মজুদ করে রাখছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের মনিটরিং টিম কঠোরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে পণ্যের দাম অনেকটায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এরই মধ্যে আদা, আলু, বেগুন, রসুন, মাছ-মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম বেশ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে এবার যেন পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে সে জন্য উখিয়া উপজেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে।

শবে মেরাজের দিনে গরু গোশত ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অভিযোগে জরিমানা ও সতর্ক করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান।

ইউএনও বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যদি পণ্য মজুদ করে দাম বাড়ায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করবে।

রোহিঙ্গাসহ স্থানীয়দের ব্যাপক চাহিদার কারণে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন। রোজার কয়েকটি পণ্যের বেশি প্রয়োজন হয়। এসব পণ্যের আমদানিও পর্যাপ্ত। বাজারে সরবরাহেও তেমন কোনো সংকট নেই। এরপরও ব্যবসায়ীরা নানা কারণ দেখিয়ে রমজান মাসে দাম বাড়িয়ে থাকেন।

গত রমজানের তুলনায় এবার পণ্যের দাম তেমন একটা বাড়বে না বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

উখিয়া দারোগা বাজারে বাজার করতে আসা তসলিমা ও তার ছেলে মাহবুব বলেন, রমজানে এবারও দাম বাড়বে। এখন থেকে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে আর পবিত্র রমজান মাসে তো আর কথায় নেই।

বাজার করতে আসা তামিম নামের এক যুবক বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে উখিয়া দারোগা বাজারে ভালো কোন মাছ পাচ্ছি না। বাজারে মাছের অকাল চলছে। চাহিদার তুলনায় মাছ কম আসায় মাছের বাজারে আগুন। যার যার ইচ্ছামতো দাম হাকাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষদের হিসাব করে চলতে হয়। এখানে এনজিও কর্মীরা বেশি বেতনে চাকরির সুবাদে তারা বেশি দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তো আর এনজিওদের মতো তত দাম দিয়ে কিনতে পারছি না। তাই আমাদের তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

দারোগা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেন, আমাদের বাড়তি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে, তাই দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি। নিত্যপণ্যের দাম পাইকারি থেকে শুরু করে যে কোনো স্তরে দাম বাড়লে তার ভার পড়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।

মৌসুমী নামের এক এনজিও কর্মী বলেন, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশলে দাম বাড়ান।

বাজারে আসা সংবাদকর্মী নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, সুষ্ঠু মনিটরিং না থাকলে বাজারে দৈন্যদশা চলবে। যে যার মতো লুট করে নিচ্ছে। আমাদের তাই-মেনে নিতে হচ্ছে।

  • ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, যেহেতু রোজায় চাহিদা বাড়ে, সে জন্য দাম একটু বাড়তে পারে।