খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিদেশিদের কাছে বিএনপির অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ বিষয় ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। দেড়ঘণ্টা ধরে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে অন্তত ১৫-১৬টি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটি ও ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল তার দলের নেত্রীর কারাবরণ, জামিনের রাজনীতিকীকরণ, খালেদা জিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্যের অবনতি, নতুন কী কী উপসর্গ দেখা দিয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের রাজনৈতিক প্রভাব ইত্যাদি সম্পর্কে বর্ণনা দেন।

মির্জা ফখরুল ব্রিফিংয়ে জানান, খালেদা জিয়ার কিডনিতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দুই পৃষ্ঠার লিখিত ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের ক্ষতি ইতোমধ্যে সাধিত হয়ে গেছে।’

ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির একজন সদস্য জানান, ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চায়না, জার্মানি, ফ্রান্স, তুরস্ক, মিশর, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, স্পেন, মিয়ানমার, পাকিস্তান, কুয়েত ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার রাষ্ট্রদূত ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এফএসি) সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন ব্রিফিংয়ে। বিদেশে থাকায় এফএসি কমিটির টিম লিডার আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

বিএনপি মহাসচিব কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কা, সরকারের সত্যিকার লক্ষ্য হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা। আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের সংবিধান ও সর্বজনীন অধিকারের নীতি অনুসারে তার জামিন এবং ন্যূনতম উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের মধ্যে বড় অংশ হলো হাসপাতালের পরিবেশ এবং রোগীর আত্মবিশ্বাস। কিন্তু এর পরিবর্তে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং তিনি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা পূর্ব পরিকল্পিত ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’

ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘কূটনীতিকদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত বসি। তাদের ব্রিফ করি। সার্বিক বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়। আজকের বৈঠকে আমি ছিলাম না। তবে বৈঠক হয়েছে।’