ইটভাটায় পুড়ছে মাটি, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ

ইটভাটায় পুড়ছে মাটি, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ

দেশে বিভিন্ন আইন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণকারি প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও ইটভাটার দৌরাত্ব্য কমছে না। মালিকরা মানছে না কোনো নিয়মকানুন। ক্রমেই বন উজাড়, কৃষির ক্ষতি ও দেশের ভূ-প্রকৃতি ধ্বংস করে মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট।

এতে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, কমছে চাষাবাদের জমি ও গাছ।

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের আশপাশ ও বাইরের বিভিন্ন রাস্তার দুইপাশে দেখা যাবে ইটভাটা। শীতকাল পেরিয়ে গরমকালেও পুড়ছে ইট। রোহিঙ্গাদের কারণে দেশের প্রত্যেক জেলা থেকে আসা এনজিওতে কর্মরত থাকা মানুষের আবাসনের প্রয়োজন হওয়ায় উখিয়া-টেকনাফে দ্রুত বাড়ছে বহুতল ভবন। তাই এখন আর ইট তৈরির মৌসুম নেই। তারপরও চালিয়ে যাচ্ছে দেদারছে ইট তৈরির কাজ। এসব ইটভাটায় কয়লার পাশাপাশি কাঠও পোড়ানো হয়। অথচ কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ।

ফসলি জমিতে লোকালয়ে এসব ইটভাটার চিমনির উচ্চতা কোনোটিরই ৬০ ফুটের বেশি নয়। অথচ চিমনি থাকতে হবে ১২০ ফুট লম্বা।

ইটের ভাটার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ।

এখানকার ৯৫ শতাংশই জ্বালানি ব্যবহার, ভাটা স্থাপন ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিধান মানছে না। ইটভাটা মাটি, পানি এবং জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় যে কার্বন মনোঅক্সাইড থাকে তা বাতাসকে যেমন দুষিত করে, তেমনি গাছপালা এবং ফসলের ক্ষতি করে। ইটভাটার বর্জ্যে যে সালফার থাকে তা নদী বা জলাশয়কে দুষিত করে। ইটভাটার আগুনের প্রচন্ড তাপে ইটভাটার আশপাশের ফসলি জমি সিস্ফল হয়ে যায়। ইটভাটার কারণে বাতাস দুষিত হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ তে উল্লেখ আছে, ইটভাটায় ফসলি জমির উপরের মাটির (টপ সয়েল) ব্যবহার করলে প্রথমবারের জন্য দুই বছরের কারাদন্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধের জন্যে ভাটা কর্তৃপক্ষকে ২ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। অনুমোদন না নিয়ে ইটভাটা স্থাপন করলে এক বছরের কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। কিন্তু এখনো আইন বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। ফলে ইটভাটার আগ্রাসনও বন্ধ করা যাচ্ছে না।

ইটভাটায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন এখানকার সচেতন মহল। ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি। এটা বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। ফসলি জমির মাটির উপরি অংশ কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমির ফসল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকাংশে কমে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়বে খাদ্য নিরাপত্তা।

সচেতন মহল বলছেন, ইটভাটার কারণে পরিবেশ দুষণ, ভূমির উর্বরতা হ্রাস ও বন উজাড় হচ্ছে। কৃষি জমি দিন দিন কমছে। ইটভাটাতে মাটির জোগান দিতে ফসলের জমি অকেজো গর্তে পরিণত হচ্ছে। কেবল সমতল ভূমি নয়, কোথাও কোথাও পাহাড় পর্যন্ত কাটা হয় ইটভাটার মাটি জোগাড় করার জন্য।