এফআর টাওয়ারের মালিকদের একজন বিএনপি নেতা তাসভির আটক

এফআর টাওয়ারের মালিকদের একজন বিএনপি নেতা তাসভির আটক

অগ্নিকাণ্ডে হতাহত হওয়া রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের অন্যতম মালিক বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে বারিধারার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি উত্তরের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাজাহান সাজু বিষয়টি গণমাধ‌্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, নকশার ব্যত্যয় করে নির্মিত এফ আর টাওয়ারের অবৈধ ফ্লোরগুলোর মালিক তাসভির। তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

এই এফআর টাওয়ারটি একাধিকবার পরিদর্শন করে এর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এজন্য কিছু সুপারিশও করা হয়েছিল। তবে পরপর দু’বার নোটিশ করেও কাজ হয়নি। ভবনের ফায়ার সেফটি ইস্যুতে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের পাশের ১৭ নম্বর সড়কে ফারুক রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারের অবস্থান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ ভবনে আগুন লাগে। এতে ২৫ জন নিহত ও ৭৩ জন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন অনেকেই কাচের জানালা ভেঙে এভাবে হাত বাড়িয়ে বাঁচার আকুতি জানান

এফআর টাওয়ারের মালিকদের একজন বিএনপি নেতা তাসভির আটক

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ১৮তলা ভবন নির্মাণের জন্য এফ আর টাওয়ারের নকশা রাজউক থেকে অনুমোদন করা হলেও সেখানে পরবর্তীতে নির্মাণ করা হয় ২৩তলা। যেখানে রাউজকের অনুমোদিত নকশা থেকে এ ভবনের নকশায় আরও অনেক বিচ্যুতি রয়েছে। এফআর টাওয়ারের মালিকপক্ষ ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজউকের কাছে আরেকটি নকশা পেশ করে, যার সঙ্গে রাজউকে সংরক্ষিত নকশার কোনো মিল নেই।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্র জানায়, ভবনটি ১৮তলা নির্মাণের জন্য প্ল্যান পাস হয় ১৯৯৬ সালে। কিন্ত ২০০৫ সালে এসে ভবন মালিক কর্তৃপক্ষ একটা কপি দাখিল করেন যে, ভবনটি ২৩ তলা হয়েছে। সেটাতে সন্দেহ হবার কারণে তদন্ত শুরু করে রাজউক। সেই তদন্তে দেখা যায়, যে কপি তারা দাখিল করেছেন সে সম্পর্কে রাজউকের রেজিস্ট্রারে কোনও তথ্য নেই। এ ব্যাপারে ২০০৭ সালে রাজউক একটি রিপোর্টও তৈরি করে। তবে ধারণা করা হচ্ছে- রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে পরে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।