সেন্টমার্টিনে ধরা পড়লো ২২ মালয়েশিয়াগামি, পাচারের হোতা সানাউল্লাহ ধরাছোঁয়ার বাইরে

সেন্টমার্টিনে ধরা পড়লো ২২ মালয়েশিয়াগামি, পাচারের হোতা সানাউল্লাহ ধরাছোঁয়ার বাইরে

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে শনিবার (৩০ মার্চ) গভীর রাতে সেন্টমাটিন পূর্ব-বঙ্গোপসাগরের অভিযান চালিয়ে ২২ জন রোহিঙ্গা মালয়েশিয়াগামিকে আটক কো হয়েছে। কোস্টগার্ড সদস‌্যরা এই অভিযান চালান।

এদিকে আবার নতুন ভাবে মানবপাচারের হিড়িক পড়েছে। মানবপাচারের মুলহোতা টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ, বর্তমানে উখিয়া উপজেলার সোনাপাড়া এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করে বসবাসকারি সানাউল্লাহ। তার সহযোগী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দালালগুলোও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নতুন করে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের প্রবণতা বেড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সানাউল্লাহর কারণেই সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে সাগরে শত শত মানুষের সলিলসমাধি হয়েছে। এছাড়াও মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে থাইল‌্যান্ড ও মিয়ানমারে আটকা পড়ে অনেকেই কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কোস্টগার্ডের সহকারি পরিচালক (গোয়েন্দা) ও নৌবাহিনীর লেফট‌্যানেন্ট কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে বিসিজিএস মনসুর আলী ও বিসিজি স্টেশান সেন্টমার্টিন্স ২২ জন ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত’ মিয়ানমার নাগরিককে (রোহিঙ্গা) সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপের অদূরে ৮.৫ নটিক্যাল মাইল গভীর সমুদ্রে বোটের ভেতর থেকে উদ্ধার করে।

তিনি জানান, দালালদের মূলহোতা মিয়ানমারের বলে জানা যায়। তবে এই অভিযানে কোন পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকৃতদের মাঝে ৬ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী ও ৩টি শিশু রয়েছে।

তিনি জানান, উদ্ধারকৃত সকলকে টেকনাফে পাঠিয়ে নিকটস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হবে।

অন‌্যদিকে অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, মানবপাচারকারি ‘শীর্ষ দালাল’ সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা দিনের পর দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার সহযোগীদের মাধ‌্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক আদম পাচারের হিড়িক পড়ায় সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

সেন্টমার্টিনে ধরা পড়লো ২২ মালয়েশিয়াগামি, পাচারের হোতা সানাউল্লাহ ধরাছোঁয়ার বাইরে

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন ও মোচনী-লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কিছু চিহ্নিত দালাল এবং সানাউল্লাহর খপ্পরে পড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত যুবক সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচার হয়ে যায়। কয়েকবছর ধরে সাগরপথে মানবপাচার বন্ধ হলেও নতুন করে সানাউল্লাহর মাধ্যমে মানবপাচার কাজ পুরোদমে চালু হয়েছে। বর্তমানে সেন্টমাটিন দ্বীপের ছেঁড়াদ্বীপের পাশাপাশি ময়দানের ঘোলা নামে বঙ্গোপসাগরের কাছে মালয়েশিয়াগামী জাহাজ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছেন।

সূত্র মতে, মানবপাচারের দালাল সানাউল্লাহসহ তার সহযোগী চক্র এলাকার সাধারণ মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের গহীণ অরণ্যে জিম্মিদশায় নির্যাতন করে নানাভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়। সানাউল্লাহ দালালের হাতে জিম্মি ওই সকল লোকেরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে পারছে না।

ভূক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন, মানবপাচারকারি দালাল সানাউল্লাহর মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়ে তিনবছর ধরে এখনো খবর নেই। আবার অনেকের আত্মীয় স্বজন দালালের নির্যাতনের ভয়ে মিডিয়ার সামনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের সন্তান হারার বেদনার কথা বলেন।

সানাউল্লাহ ও তার সহযোগী রোহিঙ্গা কিছু দালালের নেতৃত্বে বিশাল একটি সিন্ডিকেট নতুন করে মাসের পর মাস এভাবে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার করে আসছে। বিভিন্ন দালালের অনেকের বিরুদ্ধে থানায় ডজন ডজন মানবপাচার মামলা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে না পড়ায় কোন মামলা হয়নি সানাউল্লাহর। তিনি কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইশাারায় ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

এদিকে মানব পাচারে জড়িত এসকল গডফাদাররা মানব পাচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করলেও এখনও শত শত মা ও শিশুর চোখের পানি ঝরছে।

কোস্টগার্ডের সেন্টমার্টিন স্টেশন কমান্ডার ২২ জন মালয়েশিয়াগামি আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, মানবপাচারকারি দালাল যতই রাঘববোয়াল হোক না কেন পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের সৎ আন্তরিকতা প্রয়োজন।