স্বামীর মৃত‌্যু লাফিয়ে পড়ে, স্ত্রীর মৃত‌্যু ওই ভবনে আগুনে পুড়ে!

স্বামীর মৃত‌্যু লাফিয়ে পড়ে, স্ত্রীর মৃত‌্যু ওই ভবনে আগুনে পুড়ে!

রাজধানীর বনানীতে বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবনটিতেই পুড়ে মরেছেন রুমকি আক্তার নামে এক নারী। আর তার স্বামী আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে নিহত হয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে অজ্ঞাতপরিচয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে এসে রুমকির লাশ শনাক্ত করেন তার স্বামী মাকসুদুর রহমানের খালাতো ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ। রুমকি এফ আর টাওয়ারে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করতেন।

এদিকে এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পরই ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে মারা যান রুমকির স্বামী মাকসুদুর রহমান।

মাকসুদুর রহমানের খালাতো ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বনানীর ওই ভবনের ১০ অথবা ১১ তলায় একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করতেন মাকসুদুর ও রুমকি। আগুন লাগার কিছুক্ষণ পরই মাকসুদুর লাফিয়ে পড়ে মারা যান। আর তার স্ত্রী রুমকি নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রুমকির লাশ পাওয়া গেছে।

মাকসুদুরের লাশ রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে রাখা আছে বলে জানান ইমতিয়াজ। আর রুমকিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।

নিহত রুমকি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার আশরাফ আলীর মেয়ে। মাকসুদ-রুমকি দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না। তারা রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আলমগঞ্জ এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকতেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ভবনটির ৯ তলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে।

ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করে। সেই সঙ্গে বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে হেলিকপ্টার থেকে বালু ফেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। এছাড়াও ল্যাডার ইউনিট (বহুতল ভবন থেকে উদ্ধারকারী সিঁড়ি), মোটরসাইকেল ইউনিট, ৫টি হেলিকপ্টার ও সেনাবাহিনীসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে ভবনটি থেকে।

রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে ১৯ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

সূত্র জানায়, ভবনটিতে দ্যা ওয়েভ গ্রুপ, হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস, আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড ছাড়াও অর্ধশতাধিক অফিস রয়েছে।