এক রাতেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঝরে গেলো ৬ প্রাণ

টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে ‘রোহিঙ্গা ডাকাত’ দলের গুলিবর্ষণ, দুইজনকে গণধোলাই

রাজধানী ঢাকাসহ ৩ জেলায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কক্সবাজারেই পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও রাজধানীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ এক সন্ত্রাসী ও গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন।

রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নরসিংদীর ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ শফিকুল ইসলাম শফিক (২৮) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় র‌্যাবের এক সদস্যও আহত হয়েছেন। এছাড়াও প্রদীপ চন্দ্র (৩৫) ও ফারুক হোসেন (৩২) নামে শফিকের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর এ ঘটনা ঘটে। রাত সোয়া ১টার দিকে আহত র‌্যাব সদস্য ও শফিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ১টা ২২ মিনিটে চিকিৎসক শফিককে মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, নরসিংদীর অপরাধীদের তালিকায় এক নম্বর আসামি শফিকুল। তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে গেলেই সে ও তার সহযোগীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টাগুলি চালালে শফিকুল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ঢামেকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাব সূত্র জানান, নরসিংদীর শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিকুল ৩টি হত্যা মামলা, ৪টি অস্ত্র মামলাসহ অন্তত একডজন মামলার পলাতক আসামি।

এদিকে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি ও জলদস্যুসহ চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার ভোরে বিজিবি ও র‍্যাবের সঙ্গে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। এ সময় এক লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা, ৮টি অস্ত্র ও ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফে নিহতরা হলেন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস (১৮) ও বালুখালী ক্যাম্পের মো. ইদ্রিসের ছেলে মো. ফারুক মিয়া। তাদের গলায় রোহিঙ্গা কার্ড ছিল।

বিজিবির টেকনাফস্থা-২ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, প্রতিদিনের মতো টহলকালে বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিজিবির একটি দল টেকনাফের হোয়াইক্যং ঝিমংখালীর খারাংখালী নাফনদী সীমান্ত পয়েন্ট এলাকায় দুই ব্যক্তিকে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেখে। কর্তব্যরত বিজিবির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে বিজিবিকে লক্ষ্য করে তারা গুলি ছুঁড়ে। এ সময় আত্মরক্ষায় বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর গুলির আওয়াজ থেমে গেলে ঘটনাস্থলে দু’জনের গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকতে দেখে।

তিনি জানান, তাদের সঙ্গে থাকা পুটলি তল্লাশি করে এক লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে সকালে মরদেহগুলো নিয়ে যায় তারা।

অপরদিকে কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার মগনামা ঘাট এলাকায় র‍্যাবের টহল দলের সঙ্গে জলদস্যুদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জলদস্যু নিহত হয়েছেন।

বুধবার ভোর ৪টার দিকে এই গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

মেজর মেহেদী হাসান জানান, মগনাঘাট এলাকায় একদল জলদস্যু জড়ো হয়েছে জানতে পেরে র‍্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে টহলে যায়। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা গুলি করে। র‍্যাবও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালালে কিছুক্ষণ পর জলদস্যুরা পিছু হটে। গুলির আওয়াজ থেমে গেলে ঘটনাস্থল থেকে দুজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ, ৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো পেকুয়া থানা পুলিশকে দিয়ে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কাউসার (২৮) নামে এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে টঙ্গীর গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত কাউসার টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার ৬নং ব্লকের মিন্টু মিয়ার ছেলে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির সময় কাউসারকে গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে তাকে নিয়ে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরের বাঁশপট্টি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ।

এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কাউসারের সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় কাউসার তার সহযোগীদের গুলিতে আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।