কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে যোগ হলো কক্স কার্নিভাল

পর্যটকের কথা চিন্তা করে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রার বিনোদন কেন্দ্র কক্স কার্নিভাল।

রোববার আবাসন খাতের সব থেকে বড় সংগঠন রিহ্যাব থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজার। বাংলাদেশে পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য এই সমুদ্র সৈকত। শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, সারাবিশ্ব থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারে আসেন এই দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত দেখার জন্য। পর্যটনকে ঘিরে কক্সবাজারে তৈরি হয়েছে উন্নতমানের অসংখ্য হোটেল-মোটেল। কিন্তু একটি অভিযোগ প্রতিনিয়তই শোনা যায় যে, কক্সবাজারে থাকার জায়গা আছে কিন্তু সমুদ্র সৈকতে গোসল ছাড়া আর কোন বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে কক্স কার্নিভাল নামের একটি বিনোদন কেন্দ্র।

কক্সবাজার লাবনী পয়েন্টে অবস্থিত মোটেল প্রবালের পাশেই অবস্থান কক্স কার্নিভালের। কক্স কার্নিভাল বাংলাদেশে একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের বিনোদন কেন্দ্র যাতে বিনোদন প্রেমীরা সারা বছর দেশী ও বিদেশী পারফর্মারদের ভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। কক্স কার্নিভাল কক্সবাজারের পর্যটকদের জন্য ভিন্ন মাত্রার বিনোদনের পাশাপাশি তাদের সামনে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরবে।

একইসঙ্গে দুই হাজার দর্শক কক্স কার্নিভালের প্রতিটি শো উপভোগ করতে পারবেন। এই বিনোদন কেন্দ্রের গ্যালারির আকার ৯ হাজার ৬৫০ বর্গফুট। ২৫ ফুট ব্যাসার্ধ্যের এই প্রদর্শনী মঞ্চের আয়তন ২ হাজার ১০০ বর্গফুট।

এছাড়া কার পার্কিংয়ের জন্য রয়েছে ৩ হাজার বর্গফুটের খোলা জায়গা। কক্স কার্নিভালে রয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির আধুনিক সাউন্ড ও লাইটিং সিস্টেম যা সম্পূর্ণ বিদেশী কারিগরি সহায়তায় তৈরি করা। পর্যটকরা যাতে সহজেই অনলাইন থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন তার জন্য রয়েছে একটি ওয়েবসাইট।

কক্স কার্নিভাল যাত্রা শুরু করে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর। চীনের বেইজিং অ্যাক্রোব্যাট গ্রুপের প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই বিনোদন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রথম সেশনে ১৫টি শো সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বিনোদন কেন্দ্রটি। স্থানীয় লোকজন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক পর্যটক চাইনিজ শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর অ্যাক্রোবেট শোতে অংশ নিয়েছে যা নতুন মাত্রা যোগ করেছে পর্যটন শিল্পে। বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি উৎসাহব্যাঞ্জক ও সত্যিই প্রশংসার দাবিদার বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

শারীরিক কসরত যে কত আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য হতে পারে তা শৈল্পিকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছে চীনা অ্যাক্রোবেট দল। সদ্য শেষ হওয়া সেশনে প্রতি রাতে ৮টায় শুরু হওয়া দেড় ঘন্টার একটি শোতে অ্যাক্রোব্যাটিকস, স্ট্যান্ট এবং নৃত্য সম্বলিত প্রাণবন্তু মঞ্চ প্রদর্শনী দর্শকদের মন কেড়েছে অন্য মাত্রায়। দর্শকরা আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনায় অ্যাক্রোব্যাট, জগলার, স্টিল ওয়াকার্স, নাচ এবং আরো নানা ধরনের প্রদর্শনী দেখে রোমাঞ্চিত ও মুগ্ধ হন।

বিনোদন কেন্দ্রটির ভবিষ্যত লক্ষ্য ম্যাজিক শো, লাইভ কনসার্ট, বাদ্যযন্ত্র শো, ড্যান্স ও থিয়েটারসহ আনন্দদায়ক আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রদর্শনীর আয়োজন করে পর্যটকদের ব্যতিক্রমধর্মী বিনোদনের ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যেই বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে কক্স কার্নিভাল। মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ২৬ শে মার্চ কক্স কার্নিভালে তারা আয়োজন করতে যাচ্ছে কনসার্ট, ড্যান্স প্রোগ্রাম এবং ফ্যাশান শো। এই স্বাধীনতা দিবসে কক্স কার্নিভালের মঞ্চ মাতাবেন এ সময়ের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী কনা ও তার দল। এছাড়া বিখ্যাত অভিনয় শিল্পী তারিন এবং তার দল মঞ্চে পারফর্ম করবেন নানা ধরনের নাচের মাধ্যমে। কোরিওগ্রাফার লুনা বাংলাদেশের প্রখ্যাত র‌্যাম্প মডেলদের নিয়ে প্রদর্শন করবেন মনোমুগ্ধকর ফ্যাশন শো।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!