পেকুয়ায়ও ‘নৌকা’র হার, জিতলেন ‘বিদ্রোহী’ জাহাঙ্গীর

পেকুয়ায়ও ‘নৌকা’র হার, জিতলেন ‘বিদ্রোহী’ জাহাঙ্গীর

কক্সবাজারের উপকূলীয় পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম ‘দোয়াত কলম’ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১৭ হাজার ২২৫। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল কাশেম (নৌকা) পেয়েছেন ১৫ হাজার ২৬৯ ভোট। অপর ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম গিয়াস উদ্দিন ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৪৩ ভোট।

অপরদিকে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে উম্মে কুলসুম মিনু এবং সাধারণ ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ‘চশমা’ প্রতীক নিয়ে আজিজুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

স্থানীয় সূত্রগুলো মতে, ‘নৌকা’র হার নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, ৪০টি কেন্দ্রে ‘নৌকা’র ব্যাজ ধারণ করে যে পরিমাণ নেতা-কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন তারা ভোট দিলেও বিশাল ব্যবধানে নৌকা জিততো।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও চকরিয়ার পর পেকুয়াতেও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়হীনতা, দ্বন্দ্ব-কলহ এবং কোন্দল জিইয়ে থাকার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ‘নৌকা ঠেকাও’ মনোভাব ও প্রচেষ্টা থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছেন, পেকুয়া উপজেলায় এক লাখ ৬ হাজার ২৮৯ জন ভোটার রয়েছেন। রোববার ৪০টি কেন্দ্রের ২৫০টি বুথে এসকল ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এ নির্বাচনে ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ প্লাটুন বিজিবি, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন ও চকরিয়া সার্কেলের এএসপি কাজী মো. মতিউল ইসলামের নেতৃত্বে ১৬৮জন পুলিশ সদস্য ছাড়াও বিপুল পরিমাণ র‌্যাব ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।