মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণঃ যে কোন ধসে পড়বে কুতুবদিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবন

মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণঃ যে কোন ধসে পড়বে কুতুবদিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবন

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম। যে কোন মুহূর্তে ধ্বসে পড়তে পারে পুরো ভবনটি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে আবাসিকভাবে থাকছেন ওই অফিসের একজন কর্মচারীও।

অফিসটি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, তিনকক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবনটির সামনের অংশ দেখে বুঝার উপায় নেই যে ‘এটা অফিস নাকি পরিত্যক্ত ভবন’। এখানে রয়েছে কর্মকর্তার জন্য একটি কক্ষ, কর্মচারীদের জন্য দু’টি কক্ষ এবং একটি গোডাউন। তবে ব্যবহার করার মতো একটি কক্ষও দেখা যায়নি ভবনটিতে।

অফিসারের কক্ষে দেখা যায়নি কোন আসবাবপত্রও। যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কয়েকটি চেয়ার-টেবিল। গোডাউনে বাসা বেঁধেছে কবুতর ও হুতুম পেঁচা। ভবনের দেয়ালগুলোতে রয়েছে ফাটলের অসংখ্য দাগ। প্রত্যেকটি কক্ষের ছাদের ফলেষ্টার খসে পড়ছে। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, মরিচায় ধরা জীর্ণ লোহার রডগুলো।

মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণঃ যে কোন ধসে পড়বে কুতুবদিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবন

এই ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবাসিক থাকেন মিজানুর রহমান নামের একজন কর্মচারী। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে শ্রমিক (মেশন) পদে কর্মরত রয়েছেন এখানে। অফিসের সম্পূর্ণ কার্যকলাপ বলতে গেলে তার উপর দিয়েই চলছে। জরাজীর্ণ ভবনের একটি কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে রাতযাপনও করতে হয় তাকে। ভবনটি দেখেই কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে থাকতে চান না, বলেন তিনি।

অফিস সূত্রে জানা যায়, এই দপ্তরে মোট মঞ্জুরিকৃত এগারোটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে চারজন নলকূপ মেকানিক ও একজন মেশন (শ্রমিক)। উপ-সহকারি প্রকৌশলী, অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক, শ্রমিক ও নৈশ্যপ্রহরীসহ বাকি পদগুলো খালি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

এব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোছাইন বলেন, উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর হলো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এই দপ্তরের কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানোর পরও বিগত বেশ কয়েক বছর পূর্বে মূল ভবনের উত্তরপাশে একটি ভবন অনুমোদন হয়। ঠিকাদারের নানা জটিলটার কারণে ভবনটির কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলে সেটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেই ভবনটিও পরিত্যক্ত পড়ে আছে।

মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণঃ যে কোন ধসে পড়বে কুতুবদিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবন

মূলভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবনটির অবস্থা খূবই নাজুক। যে কোন মুহূর্তে ধ্বসে পড়ার আশংকা রয়েছে। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিকল্প কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই ভবনেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

খবর নিয়ে জানা যায়, এই ভবনের সমসাময়িক সময়ে তৈরি করা অন্যান্য ভবনগুলো দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর বিগত কয়েক মাস আগে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসটি জরাজীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় দূর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

দূর্ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটির ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।