‘রোহিঙ্গাদের ইচ্ছা’য় হতে হবে ভাসানচরে স্থানান্তর!

‘রোহিঙ্গাদের ইচ্ছা’য় হতে হবে ভাসানচরে স্থানান্তর!

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য কাজ করছে সরকার। তবে এ নিয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সফরে এসে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সুরক্ষাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার ভলকার ত্রুক বলেছেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তবে ভাসানচরে স্থানান্তর হতে হবে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছায়।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সুরক্ষাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার ভলকার ত্রুকের বাংলাদেশ সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইউএনএইচসিআর।

সংবাদ সম্মেলনে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে জাতিসংঘের গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনা আমাদের জন্য চালিয়ে যাওয়া জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার এলাকায় যে ক্যাম্পগুলো রয়েছে তা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এজন্য বাংলাদেশ সরকার তাদের বসবাসের জন্য যে বিকল্প ব্যবস্থা করছে তাতে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমাদের জন্য জরুরি যে তাদের সঙ্গে কাজ করা। প্রথমে যেটি নিশ্চিত করতে হবে তা হচ্ছে যে কোনো জায়গায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর স্বেচ্ছায় হতে হবে। বর্তমান ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা যদি যেতে চায়, সেখানে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে এখনো আলোচনা।’

বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভলকার ত্রুক বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সহযোগিতা চলমান থাকবে। বাংলাদেশ সফরে এখানকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ সংকটের সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

‘রোহিঙ্গাদের ইচ্ছা’য় হতে হবে ভাসানচরে স্থানান্তর!

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকট স্থিমিত হয়ে যাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘২০১৭ সালের তুলনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের চুক্তি হয়েছে। এ প্রত্যাবাসনের মূল শর্ত হচ্ছে মিয়ানমারের ফিরে যাওয়ার সহায়ক পরিবেশ তৈরি হওয়া।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে যেখানে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে। তবে রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে এখনো সেখানে (মিয়ানমার) নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে অনাস্থা রয়েছে। কারণ মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন প্রদেশে এখনো সহিংসতা হচ্ছে।’

এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের চাপ অব্যাহত থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন ভলকার ত্রুক। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু রয়েছে, তা দিয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ আমরা নিশ্চিত করব।’

মিয়ানমারে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনএইচসিআরের সুরক্ষাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি বেশ জটিল। আগে রাখাইনে বসবাসরত সম্প্রদায়ের মধ্যে সংশয় দূর করতে হবে।’