উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ি, কাজে ধীরগতি, ঘটছে দুর্ঘটনা

উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ি, কাজে ধীরগতি, ঘটছে দুর্ঘটনা

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত যেমন কক্সবাজারে,তেমনি বিশ্বের দীর্ঘতম শরণার্থী ক্যাম্পও কক্সবাজারের উখিয়ায়। কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কটিতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। দু’দিন চলে তো বন্ধ থাকে ৩ দিন। ক্যাম্পে শত শত বিলাসবহুল এনজিওর গাড়িসহ যাত্রী ও মালবাহী যানবাহনের ভারে নুয়ে পড়ার মতো অবস্থা সড়কটির।

উখিয়া কোটবাজার থেকে পালংখালী পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে ছাত্রছাত্রীদের চলাচলেরও উপায় নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিকল্প পথে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। কোটবাজার-মরিচ্যাবাজার যেতেও উখিয়া গরুবাজার হয়ে বিভিন্ন অলি-গলি বেছে নিতে হয় এলাকাবাসীকে।

মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। উন্নয়ন কাজের জন্য চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। শুস্ক আবহাওয়ায় ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন, আর একটু বৃষ্টি হলে পুরো এলাকা হয় জল-কাদায় একাকার।

রাস্তার কাজের ধীর গতির ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষের। ক্যাম্পে কর্মরত রয়েছেন যারা তারাসহ কর্মজীবী মানুষগুলো ঠিকমতো অফিস-আদালত, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারছেন না।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রী ফারিয়া ফারহা নিশি বলেন, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে আমাকে এখন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ক্যাম্পে কর্মরত এক এনজিও কর্মী জাহাঙ্গির আলম বলেন, প্রতিদিন সকালে কুতুপালং ক্যাম্পে যাতায়াত করি। রাস্তার দুপাশে প্রসস্থকরণ কাজ চলছে। ধুলোবালির কারণে পরিস্কার কাপড় চোপড় গায়ে দিলে, খুব তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যায়।

শামিম, সোহেল, ছিদ্দিক, লায়লা, পারভিন, সেলিনাসহ আরো বেশ কয়েকজনেরও একই অভিযোগ। তাদের প্রত্যেকের দাবি, অতিদ্রুত রাস্তাটির সংস্কার ও যাতায়াত উপযোগী করা হোক।

শফিক আজাদ বলেন, মানুষ এখন এ পথ দিয়ে চলাচল করতে ভয় পায়। পুরো রাস্তাজুড়ে খানাখন্দে ভরা। একটু বৃষ্টি হলে গর্তগুলো ভরাট হয়ে আশপাশের পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়। রাস্তা ঘাট কাদা মাটিতে ভরে যায়। সারাদিন অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। সবমিলিয়ে আমরা আছি এক অসহনীয় যন্ত্রণায়।