চকরিয়ায় উপজেলা নির্বাচনে ভোট দেননি এক লাখ ৯৪ হাজার ৪৪১ ভোটার

চকরিয়ায় বিশাল ব‌্যবধানে জয়ের পথে সাঈদী

১৮ মার্চ হয়ে যাওয়া চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৯৯টি ভোট কেন্দ্রে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৫৫ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৮৮ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৮৮ হাজার ৮৬৪ জন ভোটার। তবে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪১ জন ভোটার।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এত কম ভোটার ভোটে অংশগ্রহণ করার দ্বিতীয় কোন রেকর্ড নেই।

উপজেলা পরিষদ সৃষ্টি হয়ে ছিল এরশাদ সরকারের আমলে। প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক জেলা চেয়ারম্যান ও এমপি সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। দ্বিতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হোসেন বিএসসি। তৃতীয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন রেজাউল করিম। চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন জাফর আলম। ওই ৪টি নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল কল্পনাতীত।

৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে না পারায় এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক জোট নির্বাচন বর্জন করায় পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা উপস্থিত হওয়ার সাহস পাননি। যার কারণে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রশাসনের আন্তরিক ও সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার কারণে সুষ্টু নির্বাচন হলেও ভোটার অনুপস্থিতি কম হওয়ায় এই নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী আনারস মার্কা নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭০৫টি। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯৮৯টি। শ্রমিক নেতা জহিরুল ইসলাম দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৮১টি। ড্যামি প্রার্থী মোকতার আহমদ পেয়েছেন মাত্র ৮৯টি। তাদের সর্বমোট প্রাপ্ত ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৮৮ হাজার ৮৬৪টি।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মকছুদুল হক ছুট্টো বই প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৫টি, আবু মুছা উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ২৯ হাজার ৩৩৭টি, বেলাল উদ্দিন শান্ত তালা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৫ হাজার ৯০৫ ভোট, ছৈয়দ আলম চশমা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪৫৪টি, সিরাজুল ইসলাম আজাদ টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১১ হাজার ১০৭টি। তাদের সর্বমোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা হচ্ছে ৮৭ হাজার ৮৯৪টি।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি কলসী প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৩৪ হাজার ২৯৪টি। সাফিয়া বেগম চম্পা ফুটবল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯০৩টি আর জাহান আরা পারভীন হাঁস প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ২১ হাজার ৮০৭টি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পালাকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থগিত ভোট কেন্দ্রের ভোট প্রাপ্তির উপর নির্ভর করে কে বিজয়ী হবেন তা পরে জানা যাবে। তাদের ৩ জনের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা হচ্ছে ৮৬ হাজার ৪টি। এখানেই রহস্যজনক কারণ লুকায়িত রয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে ৮৮ হাজার ৮৬৪টি ভোট প্রয়োগ হলেও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা হচ্ছে ৮৭ হাজার ৮৯৪টি। আর মহিলা চেয়ারম্যান পদে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৮৬ হাজার ৪টি। চেয়ারম্যান পদে ২ হাজার ৮৬০টি ভোট অতিরিক্ত কাষ্ট হলেও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ওই পরিমাণ ভোট কাষ্ট হয়নি। তাহলে কি পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ পদের প্রার্থীকে এ পরিমাণ ভোট দেয়া হয়েছে তা তাদের ব্যালেট দেয়া হয়নি?