নুরুল আবছারের সংবাদ সম্মেলন

‘আমাকে মেরে না ফেলা পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’

‘আমাকে মেরে না ফেলা পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’

কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম‌্যান প্রার্থী ও চারবারের নির্বাচিত কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম‌্যান নুরুল আবছার তাঁর প্রার্থিতা ও নির্বাচনে থাকা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমাকে মেরে না ফেলা পর্যন্ত কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’

তিনি বুধবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

নুরুল আবছার আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নই, আমি স্বতন্ত্র চেয়ারম‌্যান প্রার্থী। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’তে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। জনগণের আগ্রহ ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় দফা তফসিলে আমি প্রার্থী হয়েছি।

তিনি দাবি করেন, সদর উপজেলা নির্বাচনের এই ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’তে জুয়েল (আওয়ামী লীগ প্রার্থী কায়সারুল হক জুয়েল) উপজেলা পরিষদ সামাল দিতে পারবে না। তার সামনে অনেক সুযোগ পড়ে রয়েছে। সে ভবিষ‌্যতে উপজেলা চেয়ারম‌্যান, এমপি, সদর আওয়ামী লীগ সভাপতি কিংবা জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেও আসতে পারে। এখন সময়টা তার জন‌্য অনুকূল নয়।

নুরুল আবছারের দাবি, ‘আমিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দল অনুজ জুয়েলকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গত পহেলা মার্চ প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি সেই মনোনয়ন পরিবর্তন (জুয়েলকে দেয়া নৌকার মনোনয়ন) করার জন‌্য দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ২ মার্চ সকালে ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর ওই সময়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় চলে যাচ্ছিল। তাই আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়েছে। কিন্তু দলীয় ফোরাম জানিয়ে দিয়েছে, কক্সবাজার সদরে ‘ওপেন’ নির্বাচন হবে। কাউকে বেশি চাপাচাপি করা হবে না, কাউকে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধাও দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলের এই সিদ্ধান্ত জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বকেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

নুরুল আবছার প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনের মধ‌্যদিয়ে নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছেন।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ‌্যে বলেন, উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী ও কার্যকর করাই আমার মূল লক্ষ্য। কক্সবাজার সদর উপজেলাবাসীর সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবো ও উপজেলা পরিষদ পদ্ধতি সংস্কারের জন্য জাতীয় পর্যায়ে লড়াই করব। সাধারণ মানুষের অগাধ ভালবাসার ঋণে আগামী ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্টিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকে প্রার্থী হয়েছি।

তার মতে, উপজেলা পরিষদ প্রশাসনকে রাষ্ট্র দূর্বল করে রেখেছে। এখানে দুটো প্রশাসন একটি উপজেলা প্রশাসন আরেকটি উপজেলা পরিষদ প্রশাসন। এই দুই প্রশাসনের সমন্বয় দরকার বলে মত দেন। ৯০ সালে যখন এই দেশের মানুষ প্রথম উপজেলা কাঠামোতে প্রবেশ করে তখন এর চেয়ে অনেক বেশী কাজ ছিল। কালক্রমে এসব বিলুপ্ত। তাই উপজেলা প্রশাসন পরিষদ সংস্কার জরুরী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্ধকৃত অনুদানের ৪০ শতাংশ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও কার্যকারিতা খুবই ক্ষীন। ক্ষতিগ্রস্থ বলতে শুধু উখিয়া টেকনাফের বাসিন্দারা নয়, সমগ্র জেলার আট উপজেলার মানুষও ক্ষতিগ্রস্থ। তাই বিদেশী অনুদানের ৪০ শতাংশ অর্থ প্রতিটি উপজেলার মানুষের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিতে লড়াই করে যাবো।

কক্সবাজার জেলায় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টিতে আজ অনেক বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে। কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর এসব প্রকল্প হতে উপার্জিত অর্থ সদর উপজেলা ও জেলাবাসীর কল্যাণে লভ্যাংশের ৫০ ভাগ খরচ করতে হবে। কক্সবাজার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে জেলাবাসীর উন্নয়নে লভ্যাংশের টাকা দিয়ে জীবনমান পরিবর্তনেরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতা হয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কক্সবাজার পৌরসভা সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার আরও বলেন, ক্লান্তহীন শতাধিক পথসভার মাধ্যমে ভোটারদের জাগিয়ে তুলবো আমি। লড়ে যাবো বেঁচে থাকা পর্যন্ত। আমার কাছে লড়াই যতো বড়ো, বিজয়ও ততো বড়ো।

‘বারবার ভুল ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার কারণেই উপজেলার সেবা সাধারণ জনগণের কাছে এখনো সঠিকভাবে পোঁছাতে পারেনি। তাই যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা এখন সময়ের দাবী।’