দুদকের দুর্ণীতিবিরোধী অভিযান বন্ধ করতেই মুনীর চৌধুরীকে বদলি!

দুদকের দুর্ণীতিবিরোধী অভিযান বন্ধ করতেই মুনীর চৌধুরীকে বদলি!

দেশে চলমান দুর্ণীতি বিরোধী অভিযান বন্ধ করতে কিংবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে পরিচালিত করতে কয়েকটি প্রভাবশালী দুর্ণীতিবাজ চক্র চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারই অংশ হিসাবে কৌশলে দুর্ণীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ মুনীর চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে।

১৯ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের (অতিরিক্ত সচিব) মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্ণীতি দমন কমিশনের দুর্ণীতি বিরোধী অভিযান জোরদার করেন। বিশেষ করে কমিশনের পক্ষ থেকে এনফোর্সমেন্ট টিমের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর সারাদেশে দুর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান শুরুর পাশাপাশি দুর্ণীতি দমন কমিশনের অভ্যন্তরে থাকা দুর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধেও একই অভিযান পরিচালনা করেন। ভেতরে-বাইরে পরিচালিত এই অভিযানে ব্যাপক সফলতা আসতে শুরু করে। ভাবমূর্তিও বাড়তে থাকে দুর্ণীতি দমন কমিশনের। এরই মধ্যে কমিশনের ভেতরে ও বাইরে মিলে প্রভাবশালী দুর্ণীতিবাজরা দুর্ণীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুনীর চৌধুরীকে বদলি করতে উঠে-পড়ে লাগে। এমনকি ১৯ মার্চ মুনীর চৌধুরীর বদলিটি তারই অংশ বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।

দুর্ণীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে বদলির বিষয়ে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, মুনীর চৌধুরী এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর, পরিবেশ অধিদফতর, জনস্বাস্থ্য, ভূমি এবং বিদ্যুৎ বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি সম্পদ উদ্ধার ও রাজস্ব আদায় করে ব্যাপক আলোচিত হন। চট্টগ্রাম বন্দর, পরিবেশ অধিদফতর, সমুদ্র পরিবহণ অধিদফতর, মিল্ক ভিটা ও ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের সময় তার দুর্ণীতিবিরোধী অভিযানে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার ভূমি সম্পদ উদ্ধার ও রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছিল।