সন্ত্রাসী হামলায় আহত প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা সুলতান মেম্বার

কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর ছনখোলা এলাকার বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগের নেতা সুলতান আহমদ মেম্বারের উপর অতর্কিত হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।
সূত্রমতে, সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছনখোলা এলাকার ঘাটঘর বাজারে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় মাথায় মারাত্বক আঘাত পেয়ে মাটিতে লুড়ে পড়েন তিনি। একই সাথে সুলতান মেম্বারের দুই ছেলে আলমগীর ও আক্তার কামালকেও বেদড়ক পিঠিয়েছেন সন্ত্রাসীরা। হামলার পর বাজারের পূর্ব দিকে পালিয়ে যান সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ওই সময় বাজারের স্থানীয়রা আহত সুলতান মেম্বার ও তার ছেলেদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৫ম তলায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ছনখোলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, অনেক বছর ধরে আমার একটি নিজস্ব সম্পত্তি ভোগদখল করে আসতেছি। আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ছনখোলা সুলতানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্্রাসা’র উত্তর পাশে ২০ শতক কাগজে-পত্রে সবকিছু আমার নামে একটি জমি আছে। ওই জমি নিয়ে কিছুদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত সস্ত্রাসী, ডাকাত সর্দার, ছিনতাইকারী ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির লোকজন মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসছে।
সুলতান মেম্বার জানান, চাঁদা না দিলে জায়গার উপর স্থাপনা নির্মানসহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনী।
তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ওই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করি। গত ১৭ মার্চ সদর মডেল থানার অভিযোগের নোটিশের কপি তাদের কাছে গেলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
সাবেক ইউপি সদস্য সুলতান বলেন, এক পর্যায়ে আমি ও আমার ছেলেরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ঘাটঘর এলাকার পৌছলে অতর্কিত ভাবে হামলা করে ওই সন্ত্রাসী বাহিনী।
সুলতান মেম্বার দাবী করে বলেন, তাদের উপর ‘সশস্ত্র’ সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকজনকে চিনতে পেরেছেন তিনি। তারা হলেন, ছনখোলা এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে একরামুল হুদা, মৃত এমদাদুল হকের ছেলে ‘ডাকাত সর্দার’ শহিদুল্লাহ, গোলামউর রহমানের ছেলে ইয়বা ব্যাবসায়ী সাইফুল ইসলাম, ইমাম শরীফের ছেলে জমির উদ্দিন, মৃত শাহাব মিয়ার ছেলে রাশেদসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন মিলে আমাকে এবং আমার দুই ছেলের উপর হামলা করে।
এই সন্ত্রাসী বাহিনী ছনখোলা গ্রামের নিরহ মানুষের জায়গা-জমি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দখল করে আসছে। কেউ মুখ খুলে সাহস পাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য।
বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগের এই রাজনীতিবিদ মনে করেন, পিএমখালী বিএনপি-জামায়াতের ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এলাকাতে নির্বাচনে আমি প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করেছি। এতে আমার শক্র বেড়েছে। এছাড়াও তার নিজস্ব জমির ভাগ না দেয়া এবং চাঁদা না দেয়ায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করার অপরাধে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এই সন্ত্রাসীরা চেয়েছিল আমাদের হত্যা করে আমার সম্পত্তি লুটে নিয়ার জন্য।
তিনি এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু বিচার চেয়েন। এই ঘটনায় সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।