ক্রিকেটের গায়ে সন্ত্রাসী হামলার আঁচ লেগেছে আগেও

শ্রীলঙ্কা দলের পাকিস্তান সফর বাতিলই শুধু নয়, লাহোরের সন্ত্রাসী হামলা পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই নির্বাসনে পাঠিয়েছে। ২০০৯ সালের সেই ঘটনার পর কালই (ক্রাইস্টচার্চ) প্রথম সন্ত্রাসী হামলার জেরে ক্রিকেট দলের সফর বাতিল হলো। অতীতে সন্ত্রাসী হামলার আঁচ ক্রিকেটে লাগার ঘটনাগুলোতে একবার চোখ বুলিয়ে আসা যাক—

ভারতের পাকিস্তান সফর, ১৯৮৪-৮৫
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। পাকিস্তানের শিয়ালকোটে পাকিস্তান-ভারত ওয়ানডে ম্যাচ চলছিল। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যার খবর পৌঁছাতেই বাতিল হয়ে যায় ম্যাচ। সিরিজই বাতিল করে দেশে ফিরে যায় কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্তের নেতৃত্বাধীন ভারত দল।

নিউজিল্যান্ডের শ্রীলঙ্কা সফর, ১৯৮৬-৮৭
শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড তিন টেস্ট ও চার ওয়ানডের সিরিজে প্রথম টেস্টটি সবে শেষ। শ্রীলঙ্কায় তখন গৃহযুদ্ধের আগুন, কলম্বোতে এক বোমা বিস্ফোরণে ১০০ জনের মৃত্যুতে সফর বাতিল করে দেশে ফিরে যায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল।

নিউজিল্যান্ডের শ্রীলঙ্কা সফর, ১৯৯২-৯৩
সিরিজ শুরুর আগে কলম্বোতে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। টিম হোটেলের বাইরে থাকায় নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন খেলোয়াড় সাক্ষী হন এই হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের। গেভিন লারসেন তো ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া একটি মৃতদেহের ওপর প্রায় পড়তে যাচ্ছিলেন। ঘটনার পর কয়েকজন খেলোয়াড় দেশে ফিরে যান। তাঁদের বদলি এনে নিউজিল্যান্ড সফরটি ছোট করে ফিরে যায় দেশে।

নিউজিল্যান্ডের পাকিস্তান সফর, ২০০১-০২
সফরে প্রথম টেস্টের পর ৮ মে করাচিতে শুরু হওয়ার কথা ছিল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। সেদিনই নিউজিল্যান্ড টিম হোটেলের বাইরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারা যায় ১৪ জন মানুষ। ওই ঘটনায় দলটির ফিজিও আহত হন। দ্বিতীয় টেস্ট আর খেলা হয়নি, সফর বাতিল করে দেশে ফিরে যায় কিউইরা।

ইংল্যান্ডের ভারত সফর, ২০০৮
ইংল্যান্ড দল তখন মুম্বাইয়ে ছিল না। সেখানে থাকলে হয়তো তাজমহল হোটেলেই থাকত। ২৬ নভেম্বর তাজমহল হোটেলসহ মুম্বাইয়ের কয়েকটি জায়গায় সন্ত্রাসী হামলা চলে। ওই হামলায় নিহত হয় ১৭০ জন। ঘটনার দুই দিন পর সফর বাতিল করে দেশে ফিরে যায় ইংল্যান্ড দল।

শ্রীলঙ্কার পাকিস্তান সফর, ২০০৮-০৯
লাহোর টেস্টের তৃতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা দলের বাসটি মাত্রই স্টেডিয়ামের সীমানায় ঢুকেছিল। সেই বাসে চলে সন্ত্রাসী হামলা। দলের ছয়জন সদস্য আহত হয়েছিলেন সেই ঘটনায়। নিহত হন ছয় পাকিস্তানি পুলিশ ও দুজন পথচারী। পরে সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছিল শ্রীলঙ্কা দল। সেই থেকে পাকিস্তানে নির্বাসিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।