ইসলামপন্থী জঙ্গি ও অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ থেকেই নিউজিল‌্যান্ডের মসজিদে হামলা

নিউজিল‌্যান্ডের মসজিদে ইসলামপন্থী জঙ্গি ও অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ থেকেই হামলা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। ক্রাইস্টচার্চভিত্তিক দ্য প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল নুর মসজিদে হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অন্য আরেকটি মসজিদে হামলায় কতজন হতাহত হয়েছে তা নিশ্চিত নয়।

ইসলামপন্থি জঙ্গি এবং অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ থেকেই ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে। নিজেকে ব্রেনটন ট্যারেন্ট বলে পরিচয় দেয়া এক হামলাকারী নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়ে একটি ম্যানিফেস্টোতে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ওই হামলা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।

কোথাও কোথাও বলা হয়েছে ৩৭ পাতার ম্যানিফেস্টো আবার কোথাও বলা হয়েছে ৭৩ পাতার। নিজেই ওই ম্যানোফেস্টো অনলাইনে প্রকাশ করেছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট। এর পুরোটাতেই ইসলামপন্থি জঙ্গি এবং অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি। অপরদিকে, শ্বেতাঙ্গদের প্রশংসা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার জুম্মার নামাজে অংশ নেয়া মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়। মুসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়।

হামলা চালানোর সময় সামাজিক মাধ্যমে লাইভে ছিলেন ওই হামলাকারী। ১৭ মিনিট ধরে ওই হামলার লাইভ ভিডিও প্রচারিত হয়। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান-বংশোদ্ভূত ওই হামলাকারী নিজেকে সাধারণ শ্বেতাঙ্গ নাগরিক বলে উল্লেখ করেছেন।

নিজের লেখা ওই ম্যানোফেস্টোতে ব্রেনটন জানিয়েছেন, তিনি একটি নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিজের পরিবারের লোকজনের ভবিষ্যত নিশ্চিতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

নিউজিল‌্যান্ডের মসজিদে ইসলামপন্থী জঙ্গি ও অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ থেকেই হামলা

তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপের মাটিতে সরাসরি অভিবাসীদের সংখ্যা কমাতেই তিনি এই হামলা চালিয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়ে তিনি অভিবাসী ও ইসলামপন্থি জঙ্গিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, এই হামলা চালানো হয়েছে তাদের এটা দেখানোর জন্য যে, আমাদের দেশ কখনওই তাদের হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন শ্বেতাঙ্গও বেঁচে আছেন ততক্ষণ আমাদের দেশ আমাদেরই। তারা কখনোই আমাদের ভূমি দখল করতে পারবে না। তারা কখনোই আমাদের লোকজনের জায়গা দখল করতে পারবে না।

দু’বছর ধরেই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন ব্রেনটন। তিনমাস আগেই ক্রাইস্টচার্চে হামলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তবে নিউজিল্যান্ডই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ওই বক্তব্যে তিনি ইসলামপন্থি জঙ্গি ও অভিবাসীদের ‘হামলাকারী’ উল্লেখ বলেন, নিউজিল্যান্ডে হামলার মাধ্যমে তিনি সবার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই ‘হামলাকারী’রা আমাদের দেশে থাকবে পৃথিবীর কোথাও আমাদের জন্য নিরাপদ হবে না। এমনকি বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলও না। শ্বেতাঙ্গদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিদেশি ‘হামলাকারী’দের হাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন ব্রেনটন। ২০১৭ সালের সুইডেনের স্টকহোমে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ১১ বছর বয়সী শিশু এব্বা একেরলান্ডের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেও এই হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উজবেকিস্তানের এক অভিবাসী ওই হামলা চালিয়েছিল।