শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আকুল আবেদন

চাইল‌্যাতলী একে আযাদ উচ্চ বিদ‌্যালয়ের প্রতিষ্টাতা আযাদকে মুক্তি দিন

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আকুল আবেদন

এখনো খেলাধুলার বয়স শেষ হয়নি তার। এই বয়সে একজন যুবক নানা ধরণের কর্মকাণ্ড করে সমাজে আলোচিত-সমালোচিত হয়ে থাকেন। কেউ ফুটবল খেলে, কেউ ক্রিকেট খেলে, আবার কেউবা হাডুডু খেলে। আর কেউ সামাজিক-অসামাজিক নানা কার্যকলাপ করে আলোচনা সমালোচনায় আসেন।

এরকম একজন যুবকের নাম আবুল কালাম আজাদ। তিনি রামুর মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চাইল্যাতলী একে আযাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

আবুল কালাম আযাদ এখনও খেলাধূলা করার বয়সেরই একজন যুবক। এখন তার বয়স ৩২/৩৩ বছর। এখন থেকে আরো ৫/৭ বছর আগে ২৬ বছর বয়সে তিনি একে আযাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করেন। রামুর মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চাইল্যাতলীর অন্ধকার এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন এ কে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়। সৌদি প্রবাসের আয়েশি জীবন ছেড়ে দেশে এসে একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি।

বিগত অর্ধশত বছরে রামুর মিঠাছড়ির মতো ইউনিয়নে হাতেগোনা মাত্র দু’একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতা ভেঙে যুবক আবুল কালাম আযাদ প্রতিষ্ঠা করেন একে আযাদ উচ্চবিদ্যালয়।

এ বিদ্যালয়টি এখানে অন্ধকারে যেন একটি আলোর মশাল। ঝরেপড়া শত শত ছাত্র-ছাত্রী এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ বিদ্যালয়ের কারণে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

এই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা। এই বিদ্যালয় এবং বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ কে আজাদের বিরুদ্ধে কারো কোন অভিযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অভিযোগ তো নেই। অন্য কোনো অপকর্মের অভিযোগও নেই।

একটি কুচক্রী মহল তার এই সততা, সুনাম ও শিক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে। বিদ্যালয়ের জন্য কেনা জমি নিয়ে তার বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ উত্থাপন করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ভুল বুঝিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। তাকে যেতে হয় কারাগারে।

এ কে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষানুরাগী একে আযাদের অপরাধ আর কিছু নয়। শুধু শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমাজে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে শত শত ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষার আলো বিতরণ তার অপরাধ।

চাইল‌্যাতলী একে আযাদ উচ্চ বিদ‌্যালয়ের প্রতিষ্টাতা আযাদকে মুক্তি দিন

এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যথেষ্ট শ্রম এবং সহযোগিতা দিয়ে এ বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন তৎকালীন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত সাইদুল হক। এছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানে সংবর্ধিত হয়েছেন এ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন এবং সরেজমিনে এই প্রতিষ্ঠান হাজির হয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার ও রামুর সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।

কোন ধরনের অপরাধ ছাড়া অনেকটা বিনাকারণে চাইল্যাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক একে আজাদ কারাগারে থাকবেন এটা এলাকার সচেতন মানুষ এবং এ কে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা ও শত শত শিক্ষার্থীরা কোন মতেই মেনে নিতে পারছেন না। তাই তারা একে আজাদের দ্রুত মুক্তির দাবী করেছেন।

তারা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সদয় সহানুভূতি এবং সহযোগিতা কামনা করছেন।