চকরিয়ায় কোটি টাকার ৩টি ‘মৎস্য সার্ভিস সেন্টার’ এখন গো-চারণ ভূমি!

চকরিয়ায় কোটি টাকার ৩টি ‘মৎস্য সার্ভিস সেন্টার’ এখন গো-চারণ ভূমি!

কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়া মাছ চাষের জন্য বেশ খ্যাতি আছে। এখানে রয়েছে কয়েক লাখ একর চিংড়িঘের (প্রজেক্ট)। এসব ঘেরের মাছ বিক্রি করে আয় হয় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। মাছ চাষের সাথে জড়িয়ে আছেন এই এলাকার লক্ষাধিক চাষী।

সেই বিবেচনা থেকেই সরকার চকরিয়ায় স্থাপন করেছে তিনটি মৎস্য সার্ভিস সেন্টার (মাছ প্রক্রিয়াকরণ)। মাছ চাষীদের মাছ সংরক্ষণে সুবিধার জন্যই এই তিনটি সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সেন্টারগুলো কাজে আসছে না, বরং ওই সার্ভিস সেন্টারে এখন তালা ঝুলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে এসব সার্ভিস সেন্টার। স্থানীয় লোকজন এসব সার্ভিস সেন্টারগুলোকে গো-চারণ, খড় শোকানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। যার কারণে এসব সার্ভিস সেন্টার মাছ চাষীদের কোন কাজে আসছে না।

সূত্র মতে, ১৯৯০-৯১ সালে মাছ সংরক্ষণের জন্য চকরিয়ায় তিনটি সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ করা হয়। চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা, সাহারবিলের ছোয়ার ফাঁড়ি এবং চিরিংগা ইউনিয়নের পালাকাটা এলাকায় মৎস্য সার্ভিস সেন্টার তিনটি নির্মাণে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

কথা ছিল, যেখানে মাছ চাষীরা তাদের আহরণ করা মাছ ঘের থেকে এনে সার্ভিস সেন্টারে সংরক্ষণ করবেন এবং বরফ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করবেন। পরে এসব মাছ দেশে-বিদেশে রপ্তানি করবেন।

ডুলাহাজারা মৎস্য সার্ভিস সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, সার্ভিস সেন্টারটির দু’পাশে দু’টি লোহার গেইট রয়েছে। এসব গেইটে লাগানো রয়েছে তালা। তালা লাগানো থাকলেও স্থানীয় লোকজন গেইট টপকে খড়ের স্তপ করে রেখেছেন। কেউ কেউ আবার গরুও পালন করছেন। অনেকটা অযতেœ-অবহেলায় পড়ে রয়েছে সার্ভিস সেন্টারটি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, এখানে যে একটা মৎস্য সার্ভিস সেন্টার রয়েছে তা আমার জানা নেই। আপনার কাছ থেকে শুনলাম।

তিনি বলেন, কি কারণে বন্ধ রয়েছে খোঁজ নিয়ে দেখবো।

স্থানীয় মাছ চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, সার্ভিস সেন্টারটির পাশে কয়েক হাজার একর মাছের ঘের রয়েছে। একসময় ভোরে ঘের থেকে মাছ এনে এই সেন্টারটিতে সংরক্ষণ করতাম। কিন্তু দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে সার্ভিস সেন্টারটি বন্ধ রয়েছে। যার কারণে আমাদের স্থানীয়ভাবে নির্মিত বরফ কলগুলোতে মাছ প্রক্রিয়াজাত করতে হয়।

এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, সরকার এলাকার মাছ চাষীদের কথা চিন্তা করে কোটি টাকা ব্যয়ে মাছ প্রক্রিয়াকরণের জন্য তিনটি সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ করে। কিন্তু এসব সার্ভিস সেন্টারগুলো কোন কাজে আসছে না। তা আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের।

তিনি বলেন, সার্ভিস সেন্টার তিনটি ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কি কারণে সার্ভিস সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখবো।