এলএ অফিসের দালাল খোরশেদসহ চক্রের ৪ সদস‌্য আটক, পরে সাজা

এলএ অফিসের দালাল খোরশেদসহ চক্রের ৪ সদস‌্য আটক, পরে সাজা

কক্সবাজার ভূমি হুকুম দখল শাখা (এলএ) কার্যালয়ের বহুল আলেচিত দালাল খোরশেদসহ ৪ জনকে আটকের পর সাজা দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত খোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে দালাল চক্রের মূল হোতা হিসেবে তার কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও রেললাইনের জমি অধিগ্রহণে বিভিন্ন কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো খোরশেদ সিন্ডিকেট।

অবশেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে খোরশেদ আলমসহ ৪ দালালকে আটক করা হয়েছে।

১২ মার্চ (মঙ্গলবার) রাত ৯টার দিকে ওই ৪ দালালকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে কারাগারে পাঠান ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ সেলিম এই সাজা প্রদান করেন।

আটক দালালরা হলেন মহেশখালীর কালামারছড়া এলাকার মকবুল আহমদের ছেলে রকি উল্লাহ ওরফে রকি (সাজা ১০ দিন), একই এলাকার হোয়ানক ফরিয়ারছড়া এলাকার ছাব্বিরের ছেলে ইব্রাহিম (৩৭) (সাজা ২০ দিন), কালামারছড়া মারকাঘোনা এলাকার নজির আহমদের ছেলে খোরশেদ আলম (৪০) (সাজা ২০ দিন) ও মাতারবাড়ি মাইজপাড়া এলাকার জাবের আহমদের ছেলে কাইয়ুম (সাজা ১০ দিন)।

তাদের দন্ডবিধি ১৮৬০ সালের আইনের ১৯৬ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীকে সরকারি কর্ম সম্পাদনে বাধা প্রদান করার অপরাধে তাদের আটক করে সাজা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আশরাফুল আফসার বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের (এলএও) শাখায় দালাল বা ফড়িয়াদের উৎপীড়ন বেড়ে যাওয়ায় কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের নির্দেশে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তারপর কিছুদিন দালালদের উৎপাত কমে গিয়েছিল। কিন্তু ইদানিং দালালদের উৎপাত আবারও বেড়ে গেছে। ফলে ১২ মার্চ সন্ধ্যার দিকে ওই দালালরা এলএও শাখায় কর্মরত কাননগো, সার্ভেয়ারদের কাজে বাধা প্রদান করছিল। তাৎক্ষনিক এমন খবর পেয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হই।

তিনি জানান, ওই সময় আরও কয়েকজন দালাল পালিয়ে যায়।

এদিকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা দালালদেরও এই অভিযানের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং দালাল বিরোধি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।