এনজিওকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম, স্থানীয়দের ‘অবস্থান ধর্মঘট’ স্থগিত

এনজিওকে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে স্থানীয়দের ‘অবস্থান ধর্মঘট’ স্থগিত

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরে স্থানীয়দের চাকুরিতে অগ্রাধিকারের দাবি এনজিওগুলো তোয়াক্কা না করায় ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি, উখিয়া’র উদ্যোগে সোমবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও প্রতিরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে দিনের কর্মসূচি শেষে এক সপ্তাহের জন‌্য অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

আন্দোলনকারিরা জানিয়েছেন, আগামি সপ্তাহের মধ‌্যে স্থানীয়দের চাকুরিতে অগ্রাধিকার দেয়া না হলে আবারও অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে।

স্থানীয় সূত্র মতে, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কোটবাজার চৌরাস্তার মাথায় কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন চাকুরিবঞ্চিত শত শত বেকার যুবক। এই সময় তাদের সমর্থনে উখিয়ার হাজার হাজার জনতাও রাস্তায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেন।

কর্মসূচি পালনকালে রাস্তার ধারে হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে।

এদিকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান স্থগিত করার ঘোষণা দেন যুবনেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া’র নেতারা বলেন, একমাস আগে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের সমন্বয় সভায় আন্দোলনরত স্থানীয়দের চাকুরিতে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য বিভিন্ন মেয়াদে সময় বেধে দিলেও ওই এনজিওগুলো বিভিন্ন অজুহাতে কোন গুরুত্বারূপ করেনি। যার প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারিদের অহিংস আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। যার সমস্ত দায়ভার এনজিওগুলোকে নিতে হবে বলে নেতারা কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

এনজিওকে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে স্থানীয়দের ‘অবস্থান ধর্মঘট’ স্থগিত

তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত এনজিওগুলোতে স্থানীয়দের গণহারে ছাটাই করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে দেশী-বিদেশী এনজিওগুলো পরিকল্পিতভাবে স্থানীয়দের চাকুরি থেকে ছাটাই করছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা শিবিরে নতুন নতুন চাকুরির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে এনজিওর কর্তারা বিশেষ সুবিধা নেয়ার মাধ্যমে তাদের স্বজনদের চাকুরি দিচ্ছেন।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকারিদের উদ্দেশ্যে উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম বলেন, আপনাদের আন্দোলন ও দাবির যৌক্তিকতা আছে। আপনাদের সব দাবি মেনে নেয়া হবে। ইতিমধ্যে আপনাদের বার্তা জেলা প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয়ের মাধ্যমে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

তিনি অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ জানান আন্দোলনকারিদের।

প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে যুবনেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরী অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। আপনাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করা হচ্ছে। দাবি আদায়ে আরও এক সপ্তাহ সময় দেয়া হচ্ছে এনজিওগুলোকে।