মহেশখালীর ‘আদিনাথ মেলা’ শুরু হচ্ছে সোমবার

মহেশখালীর ‘আদিনাথ মেলা’ শুরু হচ্ছে সোমবার

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আদিনাথ মন্দিরে শীব চতুদর্শী পূজা ও ‘আদিনাথ মেলা’ শুরু হচ্ছে সোমবার (৪ মার্চ)।

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দিরে এই পূজা ও মেলা শুরু হচ্ছে সোমবার বিকাল ৫টা থেকে। পূর্ণাথীদের দর্শন চলবে ৩ দিন এবং মেলা চলবে ৭ দিন। ৪ মার্চ শুরু হয়ে ১৩ মার্চ পর্যন্ত মেলা চলবে।

পূজা ও মেলা পরিচালনা কমিটির সূত্র জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক দর্শক ও পূর্ণাথীর সমাগম ঘটবে। পূর্ণাথীরা যাতে নির্বিঘেœ দর্শন করতে পারেন সেই মতো সব ধরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

পূজা ও মেলা এলাকা ৩ মার্চ বিকাল আড়াইটার সময় পরিদর্শন করেছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, কোন ধরণের মাদক, জুয়া, অশ্লীল নাচ-গান, অসামাজিক কার্যকলাপ যেন মেলা এলাকায় না চলে। এধরণের কোন বিষয় চলছে এমন খবর পেলে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, মন্দিরে আসা যাওয়ার পথ সুগম করতে নদী ও সড়ক পথে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। যাতে মন্দিরে আগত কোন লোকজন হয়রানির শিকার না হন।

সহকারি পুলিশ সুপার (মহেশখালী-কুতুবদিয়া সার্কেল) রতন কুমার দাশ গুপ্ত জানান, পূজা ও মেলা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, আদিনাথ পূজা ও মেলায় দেশের বাইরে থেকে যেমন ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হিন্দুধর্মের লোকজন এই মন্দিরে বছরে একবার দর্শনের জন্য আসেন। আগত দর্শণাথীরে জন্য পূজা ও মেলা এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, অর্ধশতাধিক পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন রয়েছেন।

তিনি বলেন, আশা করি বিগত বছরগুলোর মতো সুষ্টু সুন্দর পরিবেশে দর্শণার্থীরা পূজা উৎযাপন করতে পারবেন এবং মেলার সৌর্ন্দয্য উপভোগ করতে পারবেন।

মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর পারভেজ জানান, বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে কক্সবাজার জেলা শহরে এসে কক্সবাজার ৬নং জেটিঘাট হয়ে নদীপথে মহেশখালীর ঘোরকঘাটা জেটি ও আদিনাথ জেটি হয়ে আদিনাথ মন্দিরে আসা যায়। এছাড়াও সড়ক পথে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী-মহেশখালী সেতু দিয়ে জনতাবাজার-ঘোরকঘাটা সড়ক হয়ে আদিনাথ মন্দিরে সহসাই গাড়িতে আসা যায়।

প্রসঙ্গ, প্রতিবছর এই মৌসুমে একবার আদিনাথ মেলা চলে আসছে প্রাচীনকাল থেকে। এই আদিনাথ মেলায় মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধদের এক ধরণের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সনাতন যুগের মানুষের সৌখিন খাবার হিসিবে পরিচিত আছে গুড়/মিঠার জিলাপি। এই আধুনিক যুগের হরেক রকমের আয়েশী খাবার তৈরি হলেও মহেশখালীর মানুষের মাঝে এখনো রয়ে গেছে সেই প্রাচীনতম সময়ের জিলাপির স্বাদ।