‘ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা উন্নতির দিকে, তবে শঙ্কামুক্ত নন’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা উন্নতির দিকে, তবে তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘কেউ ডাকলে তিনি অবশ্যই রেসপন্স করছেন। তার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর এনজিওগ্রাম করে রিং পরানো হয়েছে। বন্ধ হওয়া নালী দিয়ে ফের রক্ত চলাচল শুরু হয়েছে। তার যে রিপার্কুইশন ইনজুরি হয়েছে, সেটা থেকে বের হতে সময় লাগবে।’

ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে রবিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বিএসএমএমইউতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন, ‘চিকিৎসকরা যদি মনে করেন তাকে বিদেশে পাঠানো যায়, তবেই বিদেশে পাঠানো হবে। আর যদি চিকিৎসকরা মনে করেন বিদেশে পাঠানোর মতো অবস্থা তার নেই, তবে পাঠানো হবে না।আর যদি বিমানে ওঠার পর তার অবস্থার অবনতি হয় সেক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো ইক্যুইপমেন্ট,এক্সপার্টিজ তাদের থাকে তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে পাঠানো হবে, না হলে নয়।’

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসক দল ঢাকায় আসছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে জানাতে পারে।’

দুপুরে ওবায়দুল কাদেরের হার্টবিট ৩০- এ নেমে এসেছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ তখন ৩০-এ নেমে এসেছিল কিন্তু এখন ৯০ থেকে ১১০-এ উঠা-নামা করছে। আমরা তার সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদী।’

সংবাদ সম্মেলনে কার্ডিওলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আহসান বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওবায়দুল কাদেরের হার্ট অ্যাটাক হয়। এ সময় তার বাসা থেকে আমাদের কাছে খবর পাঠানো হয়। আমাদের একজন চিকিৎসক উনার বাসায় যান। তিনি প্রাথমিকভাবে দেখার পর কার্ডিওলোজির আইসিইউতে নিয়ে আসেন। নিয়ে আসার পর তার শরীরে তেমন কোনও পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না। ইসিজি করতে করতে তার অবস্থা খরাপ হতে থাকে। তখন আমরা এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত নেই। এনজিওগ্রাম করে তার তিনটি রক্তনালীতে ব্লক পাই। আগে থেকে ডায়াবেটিসে তার অবস্থা খারাপ ছিল। যে তিনটি ব্লক পাওয়া গেছে তা ক্রিটিক্যাল। এগুলোর একটি ১০০ ভাগ, একটি ৯৯ ও একটি ৮০ ভাগ ব্লক। এর মধ্যে ৮০ ভাগের ব্লকটিতে রিং পরানো হয়েছে। অন্যদুটি ব্লক রয়েছে। রিং পরানোর পর দুই ঘণ্টা তার অবস্থা ভালোই ছিল। তারপর থেকে অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। ব্লাড প্রেসার কমে যেতে থাকে এবং ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালান্স হয়ে যেতে থাকে। তিনি চোখ খোলেন না এবং কথা বলেন না। ক্রিটিক্যাল স্টেজে চলে যান। এরপর তাকে আমরা আইএমপি যন্ত্র দিই। হেমোডাইনামিক স্ট্যাবিলিটি আমলে নিয়ে আমরা তাকে পরবর্তী থেরাপি দেবো বা বাইপাস সার্জারি করতে পারি। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত তার ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

ড. সৈয়দ আলী আহসান আরও বলেন, ‘কেউ যদি তাকে বিদেশে নিতে যান, নিতে পারেন। তবে তাদের ওই রকম ম্যান পাওয়ার থাকতে হবে, যেন তারা তাকে স্ট্যাবল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।’

বিএসএমএমইউ উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেখতে এসে তাকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন। চোখের পাতা নাড়ান। পরে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দেখতে এসে ডাকলে তিনি চোখ খোলেন।’

কার্ডিওলোজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক অসিত বরণ অধিকারী বলেন, ‘হার্ট এর রোগীর যে কোনও সময় ছন্দ পতন ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে শরীরিক অবস্থা খারাপের দিকেও যেতে পারে।’

এসময় ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা নির্বিঘ্ন করতে ও অন্যান্য রোগীর যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য বিএসএমএমইউয়ের ভেতর ভিড় না করতে সাংবাদিকসহ সব মহলের সহযোগিতা কামনা করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য।