রোগীকে ধর্ষণচেষ্টা, চিকিৎসক সহকারী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা এক নারী রোগীকে জরুরী বিভাগের একটি বিশেষ কক্ষে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক সহকারী (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট) আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আনোয়ারকে আটক করা হয়। তিনি সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের শাকিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী নারীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শারীরিক সমস্যার কারণে চাচি শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন ভুক্তভোগী নারী (২২)। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সহকারী আনোয়ার হোসেন ওই নারীকে জরুরি বিভাগের ভেতরে একটি বিশেষ কক্ষে নিয়ে যান। প্রথমে আনোয়ার পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে ভুক্তভোগী নারীর শরীরের স্পর্শকাতর অংশে একাধিক বার হাত দেন। এরপর রোগীর চাচি শাশুড়িকে জরুরী বিভাগের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে আনোয়ার পুনঃরায় নারীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন।

এজাহারে আরও জানা যায়, এক পর্যায়ে আনোয়ার ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তিনি চিৎকার করেন। এ সময় রোগীর চাচি শাশুড়ি এগিয়ে এসে ঘটনা শুনে মুঠোফোনের মাধ্যমে বাড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে ভুক্তভোগী নারীর স্বজনরা হাসপাতালে আসেন। এ সময় আনোয়ার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপজেলা পরিষদ গেইটে তাকে আটক করে উপস্থিত লোকজন জুতা পেটা ও গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে আনোয়ারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, আনোয়ার দীর্ঘদিন যাবৎ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চাকরি করে আসছেন। এর আগেও একাধিক নারী রোগীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া রাতে জরুরি বিভাগে নিয়মিত জুয়ার আসর বসাতেন তিনি।

চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রোববার সিভিল সার্জন বরাবর রিপোর্ট পেশ করবে।’

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এস এম সামছুদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ’