‘যদি একটা ভোটও পড়তো’!

মিরপুর বাংলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এখানে মোট চারটি কেন্দ্র। ১৪৭ নং কেন্দ্রটি মহিলাদের। এ কেন্দ্রে মোট চারটি বুথ। এরমধ্যে দু’টি বুথে কোনো ভোটই পড়েনি। আর দু’টির একটিতে দু’টি, একটিতে ১০টি ভোট পড়েছে ।

কেন্দ্রের ১নং বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার। রুম ছেড়ে অন্যদের নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। অপেক্ষায় থাকছেন একটি ভোটও যদি তার ব্যালট বাক্সে পড়ে।
কিন্তু ঘরির কাটা দুপুর ২টা রেখা অতিক্রম করলেও কোনো ভোটার ভোট দেয়নি তার বুথে। এরইমধ্যে রাস্তা থেকে নারীকে আসতে দেখে ভেবেছিলেন তার ভোট শূন্যতা কাটবে।

কিন্তু তিনিও অন্য বুথের ভোটার। হতাশা নিয়ে এ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, ভাই যদি একটা ভোটও পড়তো। লজ্জায় কিছুই বলতে ইচ্ছে করে না। আর দুই ঘণ্টায় যদি একটা দুটোও ভোট পড়তো। এমন নির্বাচন আর কখনোই দেখিনি। একই চিত্র এ স্কুলের প্রায় সবগুলো কেন্দ্রের কক্ষগুলোয়। কোথাও একটি, দু’টি, আবার কোনটায় ভোট শূন্য।

১৪২,১৪৩, ১৪৪, ১৪৫ ও ১৪৬ কেন্দ্রের বুথ গুলোয় পুরুষদের ভোট কিছু পড়লেও নারীদের ভোট একেবারে নাই। তারা বাকি সময় আসবে কিনা তাও বলতে পারছেন না ১৪৬নং কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ভুবেনেশ্বর মজুমদার ।

তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভোটার কেনো আসছে না আপনারাই দেখতে পাচ্ছেন। সময় শেষের দিকে, হয়ত কিছু ভোট বাড়তে পারে বলে আশা করছি।

ফেসবুক থেকে নেয়া
একটি ব্যালট বক্সের আত্মকথা!

আমার জন্ম একটি প্লাষ্টিক কারখানায় হলেও আমার একটা বিশেষত্ব আছে। আমি সাধারণ কোন প্লাষ্টিক কনটেইনার নই; গায়ে নির্বাচন কমিশনের সিল আছে, নাম্বারও আছে। সারাটা বছর অপেক্ষায় থাকি নির্বাচনের দিনটার জন্য; এলাকার সব মানুষ আসবে, আমাকে দেখবে, ব্যালট ফেলবে। ভাবতেই দারুন লাগে।

আজ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। গতরাতে বৃষ্টি দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেছে। সকাল আটটা থেকে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রের একটা বুথে বসে আছি। এখন সকাল ১১.৪০টা। যাদের অপেক্ষায় আছি, তাদের কেউ এখনও এলো না! একটা ব্যালটও কেউ দিল না।

আমার পাশেরটা তবু দুটো ব্যালট পেয়েছে! কিন্তু আমি..!! হতাশ হয়ে যাচ্ছি।
এখন মনে হয়, আমার জন্মটাই বৃথা! কি হবে এ জীবন রেখে?

‘ভোটার আনার দায় রাজনৈতিক দলগুলোর’

সিটি নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘ভোটার আনার দায় রাজনৈতিক দলগুলোর। আমরা সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করে দেই, রাজনৈতিক দলগুলো কিংবা প্রার্থীদের ভোটার নিয়ে আসতে হয়। তবে নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভালো। কোনও সমস্যার কথা শোনা যায়নি।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনে প্রবেশের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি- দুইটি কারণে ভোটার উপস্থিতি কম থাকতে পারে। একটি হচ্ছে- স্বল্প সময়ের জন্য এই নির্বাচন, এক বছর পরে আবার নির্বাচন হবে- সেজন্য কম হতে পারে। আর সব রাজনৈতিক দল অংশ না নেয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে না ভাবে ভোটার কম হতে পারে।’

সিইসি আরও বলেন, ‘দিন গড়ালে মানুষ বাড়তে পারে। তবে উপস্থিতি ওই রকম সংখ্যক নাও হতে পারে।’

নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োগ করে দিয়েছি। নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি আছে বলে আমরা মনে করছি না।’

প্রসঙ্গত, আনিসুল হকের মৃত্যুর পর উত্তর সিটির মেয়র পদ শূন্য হয়ে পড়ে। এরই প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন– আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ শাফিন আহমেদ (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান (আম), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) শাহীন খান (বাঘ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুর রহিম (টেবিল ঘড়ি)।

এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১১৬ জন এবং সংরক্ষিত ছয়টি ওয়ার্ডে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৫ জন ও সংরক্ষিত ছয়টি ওয়ার্ডে ২৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।