মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন

ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ১৮১ জন হত্যাকান্ডের শিকার

ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ১৮১ জন হত্যাকান্ডের শিকার

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশে ১৮১ জন মানুষ হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে যৌতুকের কারণে ৩ জন, পারিবারিক সহিংসতায় ১৭ জন, সামাজিক সহিংসতায় ৩৮ জন, রাজনৈতিক কারণে ৭ জন, আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ২২ জন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে ৫ জন, চিকিৎসকের অবহেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও অপহরণ করে হত্যার শিকার ৪ জন, গুপ্ত হত্যা শিকার ৫ জন, রহস্যজন মৃত্যু ৩৫ জন, ধর্ষণের পর হত্যা ৪ জন ও এসিড নিক্ষেপে হত্যার শিকার হয়েছেন দুইজন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সহকারী পরিচালক (গবেষণা ও গণসংযোগ) জাহানারা বেগমের পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বিএইচআরসি’র ডকুমেন্টেশন বিভাগের অনুসন্ধান এবং ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের সহযোগিতায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

তাদের জরিপ মতে, ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে ১৮১টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন মনে করছে, এ ধরনের হত্যাকান্ড অবশ্যই আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। কমিশন এই হত্যাকান্ডের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তাদের দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসে গড়ে প্রতিদিন ৬টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সংগঠনটি মনে করে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের অবশ্যই অধিক দায়িত্ববান হতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গতিশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে হত্যাকান্ড কমিয়ে শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

সম্প্রতি শিশু নির্যাতন ও হত্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকার ও আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন।

মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে পরিবহণ দূর্ঘটনায় ২৭৩ জন মারা গেছেন। এছাড়াও আত্মহত্যা করেছেন ১১ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৬ জন, যৌতুকের কারণে নির্যাতন ৪ জন, এসিড নিক্ষেপের শিকার একজন ও সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছে একজন।