তাড়াতাড়ি আসতে বলেছিলাম, বাবা আর আসলেন না

বুধবার সন্ধ্যায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে ঘরের বাইরে গিয়েছিলেন ফারিয়া তাহসিনের বাবা ফায়সাল সারোয়ার। রাত নয়টার দিকে ফারিয়া তার বাবাকে ফোন করে বলে, ‘আব্বু তুমি তারতারি বাসায় আইসো। আব্বু বলছিল আচ্ছা মা। এটাই তার সাথে আমার শেষ কথা। কিন্তু আব্বুতো ফিরে এলা না।’
সঙ্গে কথাগুলো বলতে বলতেই ডুকরে কেঁদে ওঠে অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারিয়া তাহসিন। আজ শুক্রবার তার বাবার একটি ছবি ও ভোটার আইডি কার্ড বুকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সে। নিখোঁজ বাবার লাশ সনাক্ত করতে মা ও বোনের সঙ্গে এসেছিল ফারিয়া।
ফারিয়া বলে, ‘আগুন লাগার পর থেকেই আব্বুর আর কোনো খোঁজ নেই। আব্বু চাঁদনী চকে ব্যবসা করতো। তার লাশ পাওয়া যায় নাই। আমি ডিএনএ টেস্টের জন্য রক্ত দিতে আসছি। আমার বোন ও আমার আম্মুরও রক্ত দিয়েছে।’

মর্গের সামনে উপস্থিত নিখোঁজ ফায়সাল সারোয়ারের ভাগ্নে বলেন, ‘বুধবার সন্ধার পরে আমাদের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল মামার। আমার ভাইয়ের জন্য আজ মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কখন যাবো সে ব্যাপারে কথা বলতে তার আসার কথা ছিল। আমি ফোনে মামাকে বলেছিলাম, মামা আমরা শুক্রবার কখন যাব? তখন মামা বলেছেন, “কখন যাবো সেটা সন্ধ্যার পর তোমাদের বাসায় এসে বিস্তারিত আলোচনা করবো “ এর পর তো মামা চলেই গেলেন’, বলে তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

গত বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ১৭ জনের মরদেহ শনাক্ত করতে এ পর্যন্ত ২৫ জনের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।

অপরদিকে আজ শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৪৬ জনের মরদেহ সনাক্ত শেষে তাদের আত্বীয়দের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।