আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮১

 

পুরান ঢাকার চকবাজারে গতকাল বুধবার রাতে রাসায়নিকের গুদাম ও পাশের চার ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে আহত হয়েছেন প্রায় ৪১ ব্যক্তি।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভবনগুলো থেকে ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সেই সঙ্গে আহতের মধ্যে ১১ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন বলে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাসেল সিকদার আজ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ইউএনবিকে জানিয়েছেন।

মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যখন আগুন পুরোপুরি নেভানো যায়নি তখন ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট।

এ ছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করতে এবং ওই এলাকার আবহাওয়া ঠাণ্ডা রাখতে বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার থেকে পানি ও রাসায়নিক দ্রব্য ছিটানো হয়।

রাসেল সিকদার জানান, উদ্ধার অভিযান আজ দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের আরেক কর্মকর্তা মাহফুজ রিভান জানান, সব মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, আগুনে দগ্ধদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঢামেক কর্তৃপক্ষ লাশগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর শুরু করেছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিহত ৩৭ জনের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের মধ্যে ১৩ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। দুর্ঘটনার তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান গতকাল রাতে জানান, রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে চুরিহাট্টা এলাকায় একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় রাসায়নিকের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে তা মুহূর্তেই পাশের চারটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর সূত্র জানায়, তাদের ৩৭টি ইউনিট রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

যোগাযোগ করা হলে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) দীলিপ কুমার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে ইউএনবিকে বলেন, রাত ২টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও অন্য ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় তা পুরোপুরি নেভাতে সময় লেগেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ওই ভবনটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় প্রায় ৪০ পরিবারের ৮০ জন সদস্য বসবাস করতেন।

এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলী এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছিলেন।