আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ছিলেন না বদি

‘আঁই বদি কত বড় বৈদ্য-দেখিবা ৩০ ডিসেম্বর'

 

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ করাতে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন উখিয়া-টেকনাফের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। অনেকটা প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের জন্য তিনি তার পক্ষ থেকে আহ্বান জানান। এমনকি বদির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার নিকটাত্মীয়সহ অনেকে আত্মসমর্পণের জন্য প্রায় একমাস আগে পুলিশি হেফাজতে চলে যান।

কিন্তু বিভিন্ন বিতর্কের কারণে শেষ পর্যন্ত আজকের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সাবেক এই জনপ্রতিনিধিকে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। যেহেতু সাবেক এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে বিতর্ক আছে তাই বিতর্ক এড়াতেই তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

পুলিশের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর করা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, তার আপন ভাইসহ অন্তত ২৫ জন নিকটাত্মীয় রয়েছেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিষয় এলেই আলোচিত-সমালোচিত এই জনপ্রতিনিধির নাম চলে আসে। বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানালে নতুন করে আবারও বিতর্কের সৃষ্টি হবে। যে কারণে বিতর্ক এড়াতেই বদিকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এদিকে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে ইয়াবা ও অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় আত্মসমর্পকারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

আত্মসমর্পণ করা ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে ২৯ জন ইয়াবা গডফাদারও রয়েছেন। আত্মসমর্পণের পর তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আত্মসমর্পণকালে তারা ৩ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৩০টি দেশীয় পিস্তল জমা দিয়েছেন।