কক্সবাজারের ৩টিসহ ১০ মেগা প্রকল্প ও একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে চলছে

 

দ্রুতগতিতে চলছে প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ ১০ মেগা প্রকল্প ও একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ। সব কিছু ঠিক থাকলে সরকারের এই মেয়াদেই দেশের মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার ভিত্তি রচনার ক্ষেত্রে এই দশ মেগা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, যে গতিতে এ সব প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে তাতে আশা করা যায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলো শেষ হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পাদিত গত ১০ বছরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এই দশ মেগা প্রকল্প হচ্ছে- পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্প, ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, কয়লা ভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প এবং সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প।
অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পাদিত গত ১০ বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দশ মেগা প্রকল্পের বাইরেও ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে। ২০১০ সালে ‘ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন ’ প্রণয়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল।
সরকারের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো (ইপিজেড) তৈরি হলে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রফতানি আয় সম্ভব হবে। একইসঙ্গে এই ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশের এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুপ্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ দূরত্ব ও সময় কমবে। দেশের (মোট দেশজ উৎপাদন) জিডিপি আনুমানিক এক শতাংশ বাড়বে। মোট ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে এই প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা—যা মোট ব্যয়ের ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য বলেছেন। ইতিমধ্যেই সেতুতে মোট ৪২টি স্প্যানের মধ্যে ৬টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সেতুর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, উত্তরা ফেইজ ৩ হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন -৬ বাস্তবায়নের কাজ শেষ হলে দেশের গণপরিবহন অনেক সম্প্রসারিত হবে। জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। যা মোট ব্যয়ের ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষি-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। চীনের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। যা মোট ব্যয়ের ২৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ১৩ অক্টোবর ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে মাওয়া থেকে পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন জাজিরা, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন হয়ে ভাঙ্গা স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোর জেলা সংযুক্ত হবে। জিটুজি পদ্ধতিতে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড নামক চীন সরকারের মনোনীত ঠিকাদার এই প্রকল্পের কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনা এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পদ্মাসেতুতে রেলপথ সংযোগের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১১ সালে ১১ জানুয়ারি পদ্মাসেতুর সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সে অনুযায়ী সড়ক ও রেলপথ বিশিষ্ট দ্বিতল রেলসেতু নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত করা হয়। রাজধানী থেকে পদ্মাসেতু পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। রেলপথটি নির্মাণে মোট ৩৬৫ দশমিক ১০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। এর মধ্য ২৭৩ হেক্টর ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ৯২ হেক্টর সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ)। প্রকল্পের আওতায় বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যাসহ ৪টি বড় ও ৫৬টি ছোট রেলসেতু নির্মাণ করতে হবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ১১ শতাংশ।২০১৫ সালে একনেকে অনুমোদিত ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। চীনের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। ১০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা জোগান দেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সরকারের। পরে উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা (ডিপিপি) সংশোধন করে পাঁচ হাজার ১০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রকল্প ব্যয় ৪০ হাজার ৮০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে রেল মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন জানান, প্রকল্পে আর কোনও অনিশ্চয়তা নেই। আশা করছি, নির্ধারিত সময়েই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
সূত্র জানিয়েছে, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্পটি হলে কক্সবাজারের সঙ্গে রেলযোগাযোগ বাড়বে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে এই প্রকল্প। এডিবির আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। যা মোট ব্যয়ের ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার মুখে স্থবির হয়ে থাকলেও বর্তমানে চলছে চট্টগ্রামের দোহাজারী হয়ে কক্সবাজার এবং ঘুমধুম রেলপথ স্থাপনের কাজ। ইতোধ্যেই প্রয়োজনীয় ১ হাজার ৩শ ৬৭ একর জায়গার মধ্যে ২৪৭ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ট্রান্স এশিয়ান রেলের অর্ন্তভুক্ত এই সংযোগটি বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমার চলে যাবে। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে এই রেললাইন চালু হওয়ার কথা।
দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ‘এ রেললাইনের রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণের কাজসহ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকারভিত্তিতে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ভূমি অধিগ্রহণও শেষ হয়েছে। রেললাইনের রাস্তা নির্মাণসহ অনেক কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে। তাছাড়া কক্সবাজার সদরেই ঝিনুক আকৃতির রেলওয়ে স্টেশন হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৬৫ একরের মধ্যে চট্টগ্রামে ৩৭ একর জমি ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিয়েছি। আর কক্সবাজারে ১ হাজার ২ একরের মধ্যে মাত্র ২শ’ ১০ একর জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘আশা করছি খুব দ্রুত কাজ বুঝিয়ে দিতে পারবো। ১০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন স্থাপনের জন্য ১৮ হাজার ৫শ ২ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা আর বাকিটা জোগান দেবে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি।’
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পসরকার মনে করে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন (২য় পর্যায়) প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় উৎস হিসেবে কাজ করবে। এ প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালের ২১ মে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ আর রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বিষয়ক একটি চুক্তি মস্কোতে স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাবনার রূপপুরে দুই হাজার চার শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার। চুক্তি বাস্তবায়নের সময়কাল সাত বছর ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের অক্টোবরে উৎপাদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৬০ বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
জানা গেছে, বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো মাথায় রেখেই রাশিয়া তার সর্বশেষ মডেলের আধুনিকায়ন করে। আর তাই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বাস্তবায়িত হচ্ছে রূপপুর প্রকল্প। বাংলাদেশের রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ৩০ নভেম্বর ২০১৭ বাংলাদেশে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশটির প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলা হচ্ছে দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ১৯৯৭-২০০০ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম এ ওয়াজেদ মিয়া ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০০৯ : পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রাথমিক কার্যাবলী ও পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নযয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশান ফেডারেশনের স্টেট এ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন (রোসাটোম)-এর মধ্যে ‘পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার’ বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় । ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর। নভেম্বরে জাতীয় সংসদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ। ২০১১ সালে সালে : বাংলাদেশ এবং রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ২০১৬ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল পর্যায়ের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে স্টেট ক্রেডিট চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। মোট ২৪০০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিটের জন্য সই করা চুক্তিতে ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। এর বাইরে ইতিমধ্যে ৫৫০ মিলিয়ন (৫৫ কোটি) ডলার ব্যয় হয়ে গেছে। এটা যুক্ত করলে হবে ১ হাজার ৩২০ কোটি ডলার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প হতে আসবে বিপুল পরিমাণ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ। জাইকার আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৯০ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। প্রকল্প এলাকায় সড়ক নির্মাণ, টাউনশিপ গড়ে তোলাসহ আনুষঙ্গিক কাজের প্রায় ১৮ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মাতারবাড়ি ইউনিয়নে ১ হাজার ৪১৪ একর জমির ওপর এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকারের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে পাওয়া গেছে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি তিন লাখ টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে সাত হাজার ৪৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার জোগান দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার আশা করছে সরকার। সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন যে ১০টি প্রকল্প রয়েছে তার মধ্যে খরচের দিক দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরই রয়েছে মাতারবাড়ির প্রকল্পটি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের আগস্টে মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। কিন্তু দরপত্র প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই পরের বছর জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান হামলায় জাপানি প্রকৌশলীসহ ১৭ বিদেশি নিহত হওয়ায় সেই দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত বছর ২৭ জুলাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানি কনসোর্টিয়াম সুমিতোমো করপোরেশন, তোশিবা করপোরেশন ও আইএইচআই করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড-সিপিজিসিবিএল।

সূত্র আরও জানায়, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। আরও একটি এফএসআরইউ স্থাপনের কাজ চলছে। গ্যাসের প্রাকৃতিক উৎস ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
সূত্র জানিয়েছে, ভারতের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎ প্রকল্প কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করবে। এ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ১৬ হাজার কোটি টাকা। যার বিপরীতে ২০১৮ সালের ৩০ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৯৪ কোটি টাকা। পরিবেশবাদীদের সমালোচনা সত্ত্বেও ২০০ কোটি ডলার অর্থায়নে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (ভেল) এবং বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিলি) এর মধ্যে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য এবং বিএইচইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রেম পাল যাদব চু্ক্তিতে সই করেন। জানানো হয়, ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার এই কেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের ওপর কোনরকম বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, “ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সব থেকে বড় প্রকল্প এই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্প ব্যয় দুই বিলিয়ন ডলারের ওপরে। ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট এবং পরবর্তীতে আরও ১০০ মেগাওয়াট এবং বন্ধুত্বের স্বাক্ষর হিসেবে আরও বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছি। এই বিদ্যুতের প্রকল্প দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও গাঢ় করবে।
গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে তিনটি কোম্পানি দরপ্রস্তাব জমা দেয়।
অর্থনৈতিক চুক্তির ৪১ মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট এবং ৪৬ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আনতে হবে। এই হিসেবে কেন্দ্র স্থাপন শেষ হবে ২০১৯ সালের শেষে। রামপাল কেন্দ্রের ৭০ শতাংশ অর্থ ঋণ নেয়া হবে। এই ঋণ দেবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। বাকি ৩০ শতাংশ পিডিবি ও এনটিপিসি যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে।
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় পায়রা বন্দর নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সমুদ্র বন্দরের সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। এ প্রকল্পটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জীভূত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। যা মোট ব্যয়ের ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ।
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প এটি। পায়রা বন্দরের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে মূল বন্দর নির্মাণে ৮০৭ কোটি এবং বন্দর সহযোগী অবকাঠামো নির্মাণে ৯০৫ কোটি ডলার খরচ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৮৩৪ কোটি ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা (ডলার প্রতি ৮৪ টাকা) খরচ ধরা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। দেশে বর্তমানে যে তিনটি বন্দরের প্রকল্প আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প হলো পায়রা।
ব্যয়বহুল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, রাবনাবাদ চ্যানেলে বড় আকারের খননকাজ করে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করতে হবে। পায়রা বন্দর নিয়ে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এইচআর ওয়েলিংফোর্ডের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ মিটার গভীরতার জন্য রাবনাবাদ চ্যানেলে ৪০ কোটি ঘনমিটার বালি মাটি অপসারণ করতে হবে, যাতে খরচ হতে পারে ৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
পায়রা বন্দর প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে বন্দরটির চেয়ারম্যান কমোডর এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সমীক্ষা প্রতিবেদন ধরে শুরুতে পায়রা বন্দর নির্মাণে এই বিশাল খরচের হিসাব করা হয়েছিল। এটি মূলত বায়বীয় হিসাব। এখন পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ও মধ্যমেয়াদে ২২ হাজার কোটি টাকার খরচ চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সরকার থেকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি অর্থায়ন বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার খরচ ধরা হয়েছে। এই খরচের মধ্যে ১ বিলিয়ন ইউরো বা ১০ হাজার কোটি টাকায় সাড়ে ১০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খননকাজের প্রকল্প রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের পরই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।’
সর্বশেষ সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি জি টু জির মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা দাতা সংস্থা সন্ধানের প্রচেষ্টা চলছে। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা হয়নি। এরপর এক প্রকার ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে প্রকল্পটি। যদিও প্রকল্পটি বাতিলও করেনি সরকার। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি এখনও ফাস্ট ট্র্যাকেই রাখা হয়েছে বলে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন।
২০০৯ সালে মহাজোট সরকার গঠনের পর প্রথম সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। জাপানের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সে সময় এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও পরিচালনা করে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক কনসালটেশন ইন্টারন্যাশনালের সমীক্ষা অনুযায়ী সোনাদিয়ার পুরো প্রকল্পটি শেষ হতে ৩০ বছর সময় প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির এ সমীক্ষা পুরনো হয়ে যাওয়ায় আবারো সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রয়োজন মনে করছে সরকার।
জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ বলেন, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে একটি সমীক্ষা চলছে। সোনাদিয়ায়ও বন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) পর্যটন সংশ্লিষ্ট একটি প্রকল্প করবে। তাদের ওই প্রকল্প সমীক্ষা করে দেখতে হবে। তারপর সোনাদিয়ার বিষয়। তবে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
প্রবৃদ্ধির সঞ্চালক ১০টি বৃহৎ প্রকল্পকে মেগা প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরদারিতে আনা হয় বেশ কয়েক বছর আগে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণের জন্য ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি’ গঠন করা হয়। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি এখনো এ ১০ প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে বলে গত বছরের ৭ জুন অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন।
গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ২০১০ সালের আগস্টে ‘গভীর সমুদ্রবন্দর সেল’ নামে একটি সেলের উদ্বোধন করা হয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন এ সেলের তথ্যমতে, প্যাসিফিক কনসালটেশন ইন্টারন্যাশনালের সমীক্ষা অনুযায়ী তিন পর্যায়ে এ বন্দর নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০১৬ সাল নাগাদ প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল। ২০৩৫ সাল নাগাদ দ্বিতীয় পর্যায়ের ও ২০৫৫ সাল নাগাদ চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্মাণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়। তবে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই না হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে দৃশ্যমান আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক প্রকল্পের অর্থায়নই নিশ্চিত হয়নি। এগুলো নিশ্চিত করাটাই সরকারের জন্য বড় কাজ।
অপরদিকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, অর্থায়ন সমস্যা নয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। নির্ধারিত সময়ে এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। দ্রুতগতিতে চলছে এসব প্রকল্পের কাজ। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলো শেষ হবে।