ওসি বখতিয়ার ও দুই এসআই গুলিতে আহত

চকরিয়ায় পুলিশ-ডাকাত একঘন্টার ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ৬ অস্ত্র জব্দ ও ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

চকরিয়ায় পুলিশ-ডাকাত একঘন্টার ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ৬ অস্ত্র জব্দ ও ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ায় সড়ক ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ-ডাকাত ঘন্টাব্যাপি ‘গুলিবিনিময়’ হয়েছে। এই সময় চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও দুইজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহত হন। পুলিশ ধাওয়া করে ৩ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।

ধৃত ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬টি বন্দুক, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, দুইটি চাকু ও একটি নকল চুলের মুখোশ।

চকরিয়া-লামা সড়কের ফাঁসিয়াখালী রিংভং এলাকায় বুধবার রাত সোয়া ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গোলাগুলিতে আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত চৌধুরী।

আহত পুলিশ কর্মকর্তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতরা হলো চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর গর্জনতলীর নুরুল হুদার ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন (২৮), ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালীর মৃত আনু মিয়ার ছেলে এনামুল (৩৫) ও মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ জাপুয়ার জালাল আহমদের ছেলে আবদুল হামিদ (৩০)।

ধৃতদের বিরুদ্ধে চকরিয়া, লামা ও মহেশখালী থানায় ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছেন, পুলিশ বুধবার রাতে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে খবর পায়, চকরিয়া-লামা সড়কের ফাঁসিয়াখালী রিংভং বালু রাস্তার মাথায় সড়ক ডাকাতি করতে জড়ো হয়েছে ৭-৮ জন সশস্ত্র ডাকাত। খবর পেয়েই ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এসআই তানভীর আহমদ, এসআই আলমগীর, এসআই সুকান্ত চৌধুরী ও এসআই চম্পক বড়–য়াসহ একদল পুলিশ রাত সোয়া ১১টায় ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

পুলিশের দাবি, ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা তাদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি ছুঁড়ে। এসময় আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি করে।

পুলিশের পক্ষ থেকে ২৩ রাউন্ড ও ডাকাতরা অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে।

থানা সূত্র মতে, গুলিবিনিময়কালে ডানপায়ে গুলিবিদ্ধ হন ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়াও বাম হাতে গুলি লেগে এসআই আলমগীর ও এসআই সুকান্ত চৌধুরীর বাম পায়ের পাতায় আঘাত পান।

একপর্যায়ে ডাকাতরা গহীণ অরণ্যে পালানোর চেষ্টা করে। ডাকাত দলের ৪-৫ জন পালাতে পারলেও ধাওয়া করে ৩ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ধৃত তিন ডাকাতের মধ্যে গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে একটি দেশে তৈরি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, এনামুল হকের কাছ থেকে একটি দেশে তৈরি বন্দুক (এলজি) ও ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, আবদুল হামিদের কাছ থেকে একটি দেশে তৈরি একনলা বন্দুক ও ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং অন্য ডাকাতদের ফেলে যাওয়া প্লাষ্টিকের বস্তার ভেতর থেকে তিনটি দেশে তৈরি বন্দুক (এলজি), দুইটি চাকু ও চুলের মুখোশ উদ্ধার হয়।

ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধে এসআই মো. আলমগীর বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন ও পুলিশ এসল্টের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।