অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে সফলতায় আইজিপি সম্মাননা পেলেন এসপি মাসুদ হোসেন

:: মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী ::

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক পাচার রোধে অভিযানের সফলতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) সম্মাননা পেয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।

পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯’র চতূর্থদিনে ৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছ থেকে এবিএম মাসুদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ সদর দপ্তরের উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সভা শেষে এই সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাাানে ভূষিত করায় ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে এক প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের ত্যাগ, সাহস ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে তাঁদের কাজের গতি, সাহস ও উৎসাহ আরো বাড়বে বলে এসপি মাসুদ হোসেন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রাপ্তির এই বিশাল অর্জন শুধুমাত্র তাঁর একার কৃতিত্ব নয়, একটা ইউনিট প্রধান হিসাবে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

তাঁর মতে, এই কৃতিত্ব কক্সবাজার জেলা পুলিশের সকল সদস্যের। কারণ, অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক চোরাচালান রোধে কঠোরতা, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষা ইত্যাদি কার্যক্রমে জেলা পুলিশের সকল সদস্য ও কক্সবাজারের নাগরিকবৃন্দ সহযোগিতা না করলে এ অর্জন কখনো সম্ভব হতো না।

এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, এ প্রাপ্তি তাঁর ও তাঁর বাহিনীর দায়িত্ব ও কর্মের পরিধিকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দেশ ও মানুষের কাছে ঋনী করেছে বারবার। এ সম্মাননা পুলিশ ও জেলাবাসীর মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেছে, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে, পুলিশের প্রতি গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে।

তিনি গৌরবময় সম্মাননা প্রাপ্তির এই শুভলগ্নে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্য এবং কক্সবাজারের সম্মানিত নাগরিকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম রেন্ঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ সদর দপ্তরের সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, একত্রে কক্সবাজার জেলা পুলিশের পাঁচজন কর্মকর্তার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক বিপিএম-পিপিএম পাওয়ার পর আবার আইজিপি সম্মাননা পাওয়া নিঃসন্দেহে গৌরবের বিষয় ও জেলা পুলিশের জন্য প্রশংসনীয় একটি রেকর্ড।

এ সম্মাননা কক্সবাজার জেলা পুলিশের জন্য একটা মাইলফলক। দায়িত্বপালনে জেলা পুলিশের সকল সদস্যের ঝুঁকি ও ত্যাগের স্বীকৃতি এবং অপরাধ দমনে সকলের অদম্য মনোভাবের সৃষ্টি হবে।

এসপি মাসুদ হোসেন তাঁর কর্মজীবনে আরো সাফল্যের জন্য সবার কাছে দোয়া ও সকলের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন।

এবিএম মাসুদ হোসেন ২৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারেের একজন দক্ষ, চৌকষ ও মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি পুলিশ সুপার হিসাবে কক্সবাজারে যোগদান করেন।

বরিশাল জেলার মেহেন্দীগন্ঞ্জে জন্মগ্রহণকারী এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনের সহধর্মিনীর নাম জেনিফার মাসুদ। মাসুদ-জেনিফার দম্পতি ঈসা ও মুসা নামের চোখজুড়ানো ফুটফুটে জমজ দুই পুত্র সন্তানের গর্বিত জনক ও জননী।

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্তির বিষয়ে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, জেলা পুলিশের কর্ণধারসহ একত্রে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা গত ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পদক বিপিএম-পিপিএম পাওয়ার পর আবার আইজিপি সম্মাননা পাওয়ায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ পুরো দেশে এখন একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এই অসামান্য প্রাপ্তিতে জেলা পুলিশ সত্যিই গর্বিত, পুলকিত ও আনন্দিত।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের এই শুভলগ্নে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জেলা পুলিশের সকল সদস্যসহ জেলাবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।