দেড়মাসে তিনদফা ডাকাতি

পেকুয়ার করিয়ারদিয়ার আরএস ঘোনায় ডাকাতি, লবণ ছাষী আহত ও সরঞ্জাম লুট

coxsbazar vision

coxsbazar vision

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার উজানটিয়া ইউনিয়নের আরএস ঘোনায় দূর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ওই সময় ডাকাত দলের হামলায় মোহাম্মদ ছবি নামের এক লবণ চাষী আহত হয়েছেন।

সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারি ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে আরএস ঘোনার চাষীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মাঠের পলিথিনসহ লবণ তৈরির সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

রোববার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও আহত লবণ চাষী মোহাম্মদ ছবি জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আরএস ঘোনায় ১৫/২০ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। এসময় ডাকাত দল আরএস ঘোনার ২৫ একর লবণ চাষের জমির পলিথিন ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়।

মোহাম্মদ ছবি জানান, ডাকাতদল তাকেসহ আরো ৫/৬ জন চাষীকে মারধর করেছে। ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে। লবণ মাঠের বাসা থেকে চাষীদের নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন সেটও লুট করেছে। ব্লেড দিয়ে লবণ মাঠের পলিথিন কেটে দিয়েছে।

করিয়ারদিয়ার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফার অভিযোগ, স্থানীয় লবণ চাষীরা অভিযোগ করেছেন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল করিয়ারদিয়া আরএস ঘোনা, দ্বীপের নাপিতারঘোনা, ছোট বাইশারী, কুমবাইশারী, বড় বাইশারীর লবণ চাষী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অব্যাহতভাবে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ডাকাত দলের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় গত দেড়মাসের ব্যবধানে করিয়ারদিয়ায় পৃথকস্থানে দফায় দফায় ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে ২৫ ডিসেম্বর মৌলভী রফিক আহমদের মালিকানাধীন কার্গোবোটে ও তার ৩ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর ইউপি সদস্য জাফর আলম চৌধুরী মালিকানাধীন দুটি কার্গোবোটে ডাকাতি হয়। ওই সময় দুটি বোট থেকে দুটি মেশিন লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল।

গত দেড়মাসের ব্যবধানে করিয়ারদিয়ায় অন্তত তিনদফা ডাকাতি সংঘটিত হয়। মনজুর আলমের চিংড়িঘেরের বাসায় চলতি মাসের ৭ জানুয়ারি ডাকাতি হয়। এ সময় ওই বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করা হয়। ২৬ জানুয়ারি রাতে ১৫ থেকে ১৬ পয়েন্টে ডাকাতি হয়। সাইডপাড়ায় ১০টির বেশি বাড়ি ও লবণ, চিংড়িঘেরের ৭টি বাসায় ডাকাতি হয়েছে।

করিয়ারদিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ছৈয়দ আলম জানান, তার লবণ মাঠের বাসায়ও ডাকাতি হয়েছে। মেশিন নিয়ে গেছে। ডাকাত দল বেপরোয়া হয়েছে। চাষীরা আতংকে দিনাদিপাত করছে।

করিয়ারদিয়ার ইউপি সদস্য জাফর আলম চৌধুরী বলেন, আমার কার্গোবোট থেকে মেশিন নিয়ে গেছে ডাকাতরা। নলবিলা, মাতারবাড়ি, বদরখালীসহ মহেশখালীর জলদস্যুরা এখানে ডাকাতি করছে।

নলবিলার একজন পেশাদার ডাকাত ও করিয়ারদিয়ার পেশাদার ডাকাতদের সমন্বয়ে এই ডাকাতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন এই জনপ্রতিনিধি।

তিনি অবিলম্বে এসব ডাকাতদলের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ স্থানীয় লবণ চাষীদের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন ভূঁইয়া জানান, ভূক্তভোগী লবণ চাষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।