এনজিওর চাকুরি হারিয়ে স্ট্রোকে মারা গেলেন উখিয়ার মরিয়ম?

এনজিওর চাকুরি হারিয়ে স্ট্রোকে মারা গেলেন উখিয়ার মরিয়ম?

এনজিওর চাকুরি হারিয়ে স্ট্রোকে মারা গেলেন উখিয়ার মরিয়ম?

কক্সবাজারের কাছের উপজেলা উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের দরগাহ বিল গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার মেয়ে মরিয়ম বেগম (২৬) আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এমএসএফে (মেডিসিন সেন্স ফ্রন্টিয়ার) চাকুরি নিয়েছিলেেন ২০১৮ সালের এপ্রিলে। কর্মস্থল ছিল কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির। গেলো বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) মরিয়ম বেগমকে চাকুরি থেকে কর্তৃপক্ষ ‘বিনা কারণে’ অমানবিকভাবে বিদায় করে দেয়।

এই মরিয়ম বেগমেের সাথে একই এলাকার মাওলানা রশিদ আহমদের ছেলে ওবায়দুল হকের বিয়ে হয় ২০১৩ সালে। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়েও রয়েছে। কিন্তু তিনমাস আগে ওবায়দুল হকের সাথে মরিয়ম বেগমের বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হয়ে যায়। এই অবস্থায় অবস্থাপন্ন ভাইদের সাথেই দুই শিশুসন্তান নিয়ে মরিয়ম বেগম চাকুরির টাকা ও ভাইদের সহযোগিতায় কোন রকমে চলছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার যখন এমএসএফ চাকুরি থেকে মরিয়ম বেগমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিদায় করে দেয়, তখন মেয়েটি ভবিষ্যৎ চিন্তায় ভেঙ্গে পড়েন।

মরিয়ম বেগমের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তাকে চাকুরিতে রাখার জন্য এমএসএফের নিয়োগকর্তাদের কাছে মরিয়ম বেগম অনেক ধর্ণা দিয়েছেন। কিন্তু এমএসএফ কর্তৃপক্ষ অসহায় মরিয়মের কোন আকুতিই শুনেনি।

দু’সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম তখন গভীর চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে পড়েন। আর চাকুরি হারিয়ে চিন্তাগ্রস্থ মরিয়ম বেগম ভাইয়ের বাড়িতে শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বুকে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মরিয়মের ভাইয়েরা চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে রওয়ানা দিলেও পথিমধ্যে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মরিয়ম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর দরগাহ বিলে মরিয়মের নামাজে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

এদিকে অসহায় মরিয়ম বেগমের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল নানা প্রশ্ন তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরিয়মের মৃত্যুর জন্য একটি পক্ষকে দায়ী করে ঝড় তোলা হচ্ছে।

শুক্রবার উখিয়ার সর্বত্র মরিয়মের রহস্যজনক মৃত্যুর খরব ছিল ‘টক অব দ্যা উখিয়া’।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উখিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার অভিযোগ করছেন, মরিয়ম বেগম চাকুরি হারানোর ধকল সইতে না পেরে স্ট্রোক করেছেন। এটিই তাঁর ধারণা।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত অধিকাংশ এনজিওর মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। তারা যখন তখন যে কোন অনৈতিক ও বিতর্কিত কাজ করতে দ্বিধাবোধ করে না।

উখিয়া-টেকনাফ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার অসহায় মরিয়ম বেগমের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।

কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী ও উখিয়া উপজেলার নাগরিক এডভোকেট সৈয়দ মুহাম্মদ আবু তাহের বলেন, মরিয়ম বেগমের আকস্মিক মৃত্যু খুবই অমানবিক। রোহিঙ্গা শরণার্থী আসার কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী যে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সেটা এনজিও গুলো কোন সময় উপলদ্ধি করতে চায়নি।

তিনি বলেন, এভাবে এনজিও গুলোর বেপরোয়া তৎপরতা চলতে থাকলে কিছুদিন পর উখিয়ার স্থায়ী বাসিন্দারা নিজ আবাসভূমিতেই পরবাসী হয়ে যাবেন।

এডভোকেট সৈয়দ মুহাম্মদ আবু তাহের দ্রুত চর্তুপক্ষীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে মরিয়ম বেগমের মৃত্যুর আসল কারণ বের করা দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

তবে এ বিষয়ে এমএসএফ কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃতজ্ঞতা: মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী