রামুতে আ.লীগের হামলায় ৩০ বিএনপি নেতা-কর্মী আহত, অফিস ও ৭ মোটরসাইকেল ভাংচুর

রামুতে আ.লীগের হামলায় ৩০ বিএনপি নেতা-কর্মী আহত, অফিস ও ৭ মোটরসাইকেল ভাংচুর

রামুতে আ.লীগের হামলায় ৩০ বিএনপি নেতা-কর্মী আহত, অফিস ও ৭ মোটরসাইকেল ভাংচুর

কক্সবাজারের কাছের উপজেলা রামুর ফতেখাঁরকুল ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হামলায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরীসহ অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় হামলার শিকার হয়েছে শিশুও।

বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাত পৌণে ১১টার দিকে রামুর ফতেখারকুলে বিএনপি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে হামলায় আহত ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের দেখতে বুধবার গভীর রাতে জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে যান কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে আহত সমর্থকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভীড় জমান। তারা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

রাতে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, একের পর একজন আহত ধানের শীষের সমর্থকরা আসছেন। তাদের দ্রুত ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শত শত লোক হাসপাতালে ভিড় করেন ওই সময়।

স্থানীয়রা জানান, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের নেতৃত্বে নৌকা মার্কার শতাধিক সমর্থক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ওই ঘটনায় রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী, উপদেষ্টা আব্দুল করিম সওদাগর, যুগ্ম সম্পাদক টিপু সুলতান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি নুরুল আবছার মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম, রামু উপজেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক জিল্লুর রহমান, উপজেলা কৃষকদল সাধারণ সম্পাদক হেমসেল সরওয়ার, যুবদলের অর্থ সম্পাদক শওকত আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সদস্য মুবিন উল্লাহ, সিরাজুল হক, রাশেদুল করিমসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হন।

আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে দেখা যায়, ফেরদৌস, জসিম উদ্দিন, আবদুল গফুর, ছৈয়দ আলম, আবদুল হামিদ, আবুল হাশেম, মামুনুর রশিদ, নুরুল আলম, মোহাম্মদ হোছন, নাসির উদ্দিন, মোকতার আহমদ, ডা. আবদুল করিম, মো. কালু, মতিউর রহমান, রিদওয়ান, আবদুর রহমান, জহির আলম, মোস্তফা কামাল প্রমুখ নেতা-কর্মী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কক্সবাজার-০৩ (সদর-রামু) আসনের বিএনপি মনোনীত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শেষে নেতাকর্মীরা অফিসে বসলে অতর্কিত স্বশস্ত্র হামলা করে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা। হামলাকালে খোদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল উপস্থিত ছিলেন।

তিনি দাবি করেন, কমলের নির্দেশেই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। মারধর ও লাঞ্চিত করা হয়েছে দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে।

কাজলের দাবি, হামলার সময় নির্বাচনী অফিসের সামনের থাকা ৭টির মতো মোটর সাইকেল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় নির্বাচনী অফিস।

তিনি বলেন, বিএনপির গণজোয়ার দেখে সরকারী দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা জনরায়ে ভীত হয়ে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি সমর্থকদের উপর পরিকল্পিত হামলা শুরু করেছে। ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা না চালাতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল।

রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ চৌধুরী মাহিন সাংবাদিকদের জানান, এমপি কমলের উপস্থিতিতেই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাটি ঘটানো হয়। হামলার জন্য তিনি নিজেই উস্কে দেন নেতাকর্মীদের।

তিনি জানান, হামলাকারিরা ধানের শীষের প্রচারণা গাড়ি ভাংচুর ও প্রচার সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যায়। হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেয় অন্তত ৭টি মোটর সাইকেল।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!