কক্সবাজার শহরের ৫ লাখ মানুষের জন্য নেই কোন খেলার মাঠ

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরে সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ। একটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, অন্যটি লীগের খেলা আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলে এমন স্টেডিয়াম। এই দুটি স্টেডিয়াম ছাড়া বলতে গেলে শহরে উঠতি বয়সি তরুণদের খেলাধুলা করার জন্য মাঠ নেই বললেই চলে। দখল, অপরিকল্পিত সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণের কারণে খেলার মাঠগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে নানা অজুহাতে ঐতিহ্যবাহী বাহারছড়া গোল চত্বর মাঠ, জেলে পার্ক, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস (পিটিআই) মাঠ, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কলাতলীর গণপূর্ত মাঠ, নুনিয়াছড়া আর্মি মাঠ, ফিশারী ঘাট মাঠ বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার অভ্যন্তরে ক্রীড়া চর্চার জন্য কোন মাঠ নেই। ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্ম অন্ধকার পথে ধাবিত হওয়ার শংকা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন শহরবাসি।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে হোটেল শৈবাল সংলগ্ন পর্যটন গলফ মাঠে ‘খেলার মাঠ চাই ফোরামে’র ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচ।

নতুন মাঠের সন্ধানে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান। বক্তব্যে তিনি বলেন, কক্সবাজারে খেলাধুলার সোনালী অধ্যায় রয়েছে। এখানকার মাঠ থেকে তৈরি হয়েছে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়। যারা রাজধানী ঢাকাসহ সারাবিশ্বে নিজেদের মেধার কৃতিত্ব রেখেছে। এতে দেশের সুনাম সমৃদ্ধ হয়েছে। তাই কিছুতেই ওই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, পর্যটন গলফ মাঠকে ক্রীড়া চর্চার জন্য স্থায়ী করা হবে। পাশাপাশি আরও ৪টি মাঠ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়াবান্ধব। তিনি ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাই কক্সবাজারের আগামী প্রজন্মের জন্য কোন মাঠ সংকট হবে না। সেই ব্যবস্থা করা হবে। কোন ছেলে মেয়েকে আর মাদকের দিকে যেতে দেয়া হবে না।

সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট ফজলুল কাদের চৌধুরী, কক্সবাজার খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি ইকবাল মাহমুদ শামসুল হুদা টাইটেল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন, কউক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল ও পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরেশ দে।

সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খেলার মাঠ চাই ফোরামের সমন্বয়ক তরুণ রাজনীতিবিদ হাসান মেহেদী রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোঃ সালাউদ্দিন।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একটি খেলার মাঠ প্রয়োজন। কিন্তু শহরের ৫ লাখ মানুষের জন্য আজ কোন খেলার মাঠ নেই। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগামী জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হবে।

বক্তারা বলেন, একটি জাতিকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে খেলাধুলা অপরিহার্য। খেলাধুলা শুধু শরীর ও মনের সুস্থতা নিশ্চিত করে না, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাসসহ বিপথগামিতার হাত থেকেও রক্ষা করে।